32

গুগল থেকে আরো বেশি করে ইউটিউব ভিডিও ভিউ পেতে চান?

গত প্রায় ১২ মাসে গুগল আমাদের ইউটিউব ভিডিওগুলোতে প্রায় ১৬০,০০০ ভিউ পাঠিয়েছে।

Video View

আমাদের ব্লগের অসংখ্য ভিডিও এমবেড আমাদের যে ভিউ পাঠিয়েছে, তার চেয়ে সেটা অনেক অনেক বেশি। বর্তমানে এর অর্গানিক ভিজিট প্রতি মাসে ২৫০,০০০ এর চেয়ে বেশি।

এই যযাতি থেকে আপনি জানতে পারবেন গুগলে আপনার ইউটিউব ভিডিওকে র‍্যাংক করানোর ৫টি সহজ ধাপ।

আমরা কিছু বোনাস পরামর্শও যুক্ত করেছি। এগুলোর বিষয়বস্তু হলো ওয়েবসাইট ট্রাফিক পেতে ভিডিও ব্যবহারের নিয়ম।

তবে তার আগে চলুন নিশ্চিত হয়ে নিই যে, আমরা একই পৃষ্ঠায় আছি…

ভিডিও এসইও কী?

ভিডিও এসইও হলো গুগল থেকে আরো বেশি ভিডিও ভিউ পাওয়া এবং আপনার ওয়েবসাইটে ভিডিও ব্যবহার করে অর্গানিক ট্রাফিক বাড়ানোর পদ্ধতি।

এই নির্দেশিকায় আমরা মূলত প্রথম অংশটিতে আলোকপাত করব: গুগল থেকে আরো বেশি ভিউ পাওয়া।

ইউটিউবে ভিডিও র‍্যাংকিং বাড়ানো নিয়ে আজ আমরা কথা বলব না। ওটার জন্য পড়ুন ইউটিউব এসইও নিয়ে আমাদের পূর্ণ নির্দেশিকা

গুগলে ইউটিউব ভিডিও র‍্যাংক করানোর উপায়

এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করুন:

এবার আসুন এই প্রত্যেকটি নিয়ে বিস্তারিত আলাপে।

ধাপ ১. “ট্রাফিক সম্ভাব্যতা”পূর্ণ বিষয় খুঁজে নিন

সব ভিডিওই কিন্তু গুগল থেকে ট্রাফিক টেনে আনবে না।

যেমন, ইউটিউবে ২.২ মিলিয়নের বেশি ভিউ পাওয়া একটি ভিডিও:

Huge Views Video

তারপরও গুগলে এটা কিছুতেই র‍্যাংক পায়নি:

Youtube-Report

কারণটা সহজ:

গুগল থেকে ভিউ টানতে হলে দুটি জিনিস থাকতেই হবে:

  • মানুষ যেন গুগলে সেই বিষয় অনুসন্ধান করে। কেউ তা অনুসন্ধান না করলে কেউ আপনার র‍্যাংক পাওয়া ভিডিওতেই ক্লিক করবে না।
  • বিষয়টি “ভিডিওসুলভ” হতে হবে। মানে এর বেশিরভাগ অনুসন্ধানকারী বিষয়টি নিয়ে কিছু পড়ার চেয়ে তার ওপর ভিডিও দেখতে পছন্দ করতে হবে।

Keyword research tools আপনাকে এরকম বিষয় খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। অনুসন্ধান ফলাফলে তখন আপনি “ভিডিওসুলভ” বিষয় খুঁজে বের করতে পারবেন।

google-search

এক নজরে ভিডিও ফলাফলসম্পন্ন অনুসন্ধানের উদাহরণ।

গুগল যেহেতু ব্যবহারকারীদের তাদের চাহিদামতো জিনিস দিতে চায়, তাহলে অনুসন্ধান ফলাফলে ভিডিও আসা দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, অনুসন্ধানকারীরা ভিডিওই দেখতে চাইছে।

প্রশ্ন হলো, এই বিষয়গুলো সহজে খুঁজে বের করা যায় কীভাবে?

সহজ। গুগল থেকে প্রচুর ট্রাফিক পায়, এমন প্রাসঙ্গিক ভিডিওগুলো খুঁজে বের করুন। কারণ এগুলোই প্রচুর মানুষের সার্চ করা “ভিডিওসুলভ” বিষয়।

তিনভাবে এটা করতে পারেন:

১. কন্টেন্ট এক্সপ্লোরার ব্যবহার

Content Explorer দিয়ে আপনি একটি শব্দ বা বাক্যাংশ উল্লেখ সংক্রান্ত ডেটাবেইজ সার্চ করতে পারবেন, যা ১.১ বিলিয়নের বেশি ওয়েবপেইজের সমষ্টি। সেই ইনডেক্সের মধ্যেই বর্তমানে ইউটিউব থেকে ৪৭ মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠা আছে।

শুরুতে এভাবে সার্চ দিন:

site:youtube.com inurl:watch title:topic

ahref

সার্চ ট্রাফিক সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত রেজাল্টগুলো সর্ট করুন। এখান থেকে আপনি বর্তমানে অর্গানিক অনুসন্ধান ট্রাফিক পাওয়া প্রাসঙ্গিক ইউটিউব ভিডিওগুলোর একটি তালিকা পেয়ে যাবেন।

ahrefs-report

যেমন, ওপরের ম্যাকারনি ও পনির ভিডিওটি প্রতি মাসে অর্গানিক অনুসন্ধান থেকে প্রায় ১৭,৪০০ ক্লিক পেয়ে থাকে।

আপনার কোনো রান্নার চ্যানেল থাকলে এই বিষয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেই ফেলুন না!

চটজলদি

Content Explorer-এ আইডিয়া খুঁজতে চাইলে “Organic traffic” গ্রাফের গত ছয় মাসের হিসেবে চোখ বোলাতে পারেন, যাতে সময়ের সাথে সাথে ট্রাফিকের ধারাবাহিকতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।

SEO-report

২. সাইট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করুন

Site Explorer-এ গিয়ে youtube.com অনুসন্ধান করুন। “Organic keywords” report-এ গিয়ে  “Include” ফিল্টারে একটি প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড যুক্ত করুন।

organic-keyword

“রেসিপি” কীওয়ার্ডটি রয়েছে, এমন অনুসন্ধানের জন্য ইউটিউব ভিডিওর র‍্যাংকিং আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি।

এসকল ইউআরএলের যেকোনোটির সাথে থাকা ক্যারেটে ক্লিক করলে তাদের আনুমানিক মাসিক বৈশ্বিক অর্গানিক ট্রাফিকের পরিমাণ দেখা যাবে।

organic-traffic

যেমন এই ভিডিওটি মাসে প্রায় ১৩০০০ অর্গানিক ভিজিট পায়। ভিডিও ইউআরএলে ক্লিক করলে দেখা যাবে এটি একটি বেলজিয়ান ওয়াফল রেসিপি। তাই রান্নার চ্যানেলে দেওয়ার মতো এটিও একটি দারুণ বিষয়।

চটজলদি

কোনো বিষয়ে ঢোকার আগে ক্যারেটে থাকা “ওভারভিউ” লিংকে ক্লিক করে “অর্গানিক ট্রাফিক” গ্রাফ দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, সময়ের সাথে সাথে তা ধারাবাহিক থাকে কি না। আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাফ দেখতে অনেকটা এমন হবে…

traffic-chart

… এমনটা নয়:

traffic-chart-1

আচমকা বেশি ট্রাফিক পেয়ে এরপর দীর্ঘসময় ধরে কম ট্রাফিক পাওয়া মানে মানুষ এই বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছে।

৩. গুগল এবং Ahrefs’ Batch Analysis টুল ব্যবহার করুন

এই free SERP scraperটি আপনার ব্রাউজারে যুক্ত করে নিন, তারপর গুগলে অনুসন্ধান করুন:

site:youtube.com [enter topic here]

তারপর যান Settings > Search settings > এরপর পৃষ্ঠাপ্রতি ফলাফল ১০০ নির্ধারিত করুন

seaech-result

ফলাফলে ফিরে গিয়ে SERP scraper ক্লিক করে ফলাফল ডাউনলোড করুন।

serp

ডাউনলোডকৃত CSV খুলে YouTube URL কপি করে Ahrefs’ Batch Analysis tool-এ দিন। “URL” মুড সেট করে “Analyze” ক্লিক করুন।

ahref-url

“Traffic” কলাম অনুযায়ী ফলাফল সর্ট করে দেখুন কোন ভিডিওগুলো সবচেয়ে বেশি অর্গানিক সার্চ ট্রাফিক পাচ্ছে।

ahref-traffic

এই টপিকগুলো নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন।

ধাপ ২. একটি “অপ্টিমাইজড” ভিডিও তৈরি করুন

জনপ্রিয় ইউটিউব ভিডিও কীভাবে বানানো যায়, সে আলোচনা এত ছোট পরিসরে সম্ভব না।

তবে “key moments” এবং “suggested clips” এর মতো Google SERP ফিচারে র‍্যাংক পাওয়ার মতো ভিডিও বানাতে যেসব বিষয় মাথা রাখা উচিত, তার কয়েকটি আমরা আলোচনা করছি।

video-rank

গুগলে Key moment SERP ফিচার।

video-rank-1

গুগলে Suggested clip SERP feature।

এ দুটোই আপনার ভিডিওতে বেশি বেশি ভিউ পাঠাতে সক্ষম।

আপাতত চলুন “suggested clips” আলোচনা করি (“key moments” নিয়ে পঞ্চম ধাপে আলোচনা করা যাবে)

গুগলের গবেষণাপত্র থেকে বোঝা যায় যে, কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে সাজেস্টেড ক্লিপ যেভাবে নির্বাচিত করা হয়, তা অতটা সোজাসাপ্টা না। তাই কারিগরি বিষয়ে ব্যস্ত না হয়ে চলুন কিছু কাজের আলাপ করা যাক।

প্রথমত, সহজসরল ভাষায় “action verbs” ব্যবহার করে ভিডিওতে প্রতিটি ধাপ বর্ণনা করুন। যেমন, ভিডিও যদি ভাত রান্নার পদ্ধতি বিষয়ক হয়, তাহলে সহজ ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া যায় এভাবে:

শুরুতে, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চাল ধুয়ে নিন। তিনবার পুনরাবৃত্তি করার পর পাতিলে চাল ঢালুন পরিষ্কার পানি মিশিয়ে, পানি ফোটান, ঢাকনা দিয়ে ১৫-২০ মিনিট তাপ দিন। অতিরিক্ত পানি ফেলে দিয়ে পরিবেশন করুন

নির্দেশিকার মাঝে অপ্রয়োজনীয় ও মনোযোগ ব্যাঘাতকারী জিনিস যথাসম্ভব পরিহার করুন। মানে একবার আপনার মা কীভাবে ভাত পুড়িয়ে ফেলেছিলেন, সে কাহিনি বলার দরকার নেই। এতে অস্পষ্টতা তৈরি হবে এবং গুগলের ভাষা চিহ্নিতকারী অ্যালগোরিদমে ভজঘট দেখা দেবে।

দ্বিতীয়ত, স্পষ্ট ও উঁচু মানের অডিও ব্যবহার করুন। এজন্য থাকতে হবে ভালো মাইক্রোফোন এবং সর্বনিম্ন ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ।

তৃতীয়ত, যা নিয়ে কথা বলছেন, পর্দায় তা-ই দেখাবেন।

যেমন, চুলায় পাতিল রাখার কথা বললে সেটাই পর্দায় দেখান। তাহলে গুগল আরো নিশ্চিত হবে যে, মৌখিক নির্দেশনা আর ভিডিওর দৃশ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জরুরি পাঠ: Video Featured Snippets: How Suggested Clips Work

ধাপ ৩. ক্লোজড ক্যাপশান মেরামত করুন

YouTube স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওর সাথে ক্লোজAdd Newড ক্যাপশান জুটে দেয়। সমস্যা হলো এগুলো থোড়াই সঠিক হয়। বানান ও ব্যাকরণগত ভুলের কথা তো বলাই বাহুল্য।

আমাদের একটি ইউটিউব ভিডিওতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া ক্যাপশানের দশা দেখুন:caption

 

ইউটিউব ভেবেছে যে টিম বলেছে, “team solo from a traps” অথচ আসলে বলেছে, “Tim Soulo from Ahrefs.”

তাই নিজে থেকে ক্যাপশান যুক্ত করাই ভালো।

YouTube’s Creator Academyর একটি ভিডিওতে সিসি’র ব্যাপারে যা বলা হয়েছে:

অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও মনোযোগের ক্ষেত্রে ক্যাপশান সবচেয়ে শক্তিশালী একটি তথ্য। ইন্টারনেট এমনিতেই টেক্সট-ভিত্তিক। তাই আপনার ভিডিওর সাথে যুক্ত টেক্সট বের করা না গেলে আপনার ভিডিও সার্চ এঞ্জিনে লুকোনোই থেকে যাবে। একটি শিরোনাম বা বর্ণনাতেই তো আর ভিডিওর সবকিছু ধারণ করা যাবে না, এমনকি ট্যাগেরও একটি ক্যারেক্টার লিমিট আছে। কিন্তু aক্লোজড-ক্যাপশান ফাইলের মাধ্যমে আপনার পুরো ভিডিওর একটি লিখিত রূপ দাঁড়িয়ে যায় আর তা সার্চ এঞ্জিনের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে।

একই ভিডিওতে আরো বলা হয়:

পর্দায় লেখা থাকলে মনোযোগ এত বাড়ে যে, মানুষ পুরো ভিডিও দেখে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই দুটি নিয়ামকের মাধ্যমে এসইও র‍্যাংকিং ও এঙ্গেজমেন্টে ব্যাপক লাভ পাওয়া যায়।

এ থেকে বোঝা যায় সিসি যুক্ত করলে দুটি প্রধান জিনিসে সুবিধা পাওয়া যায়:

  • আপনার ভিডিও বুঝতে পারা। ভিডিওর বিষয়বস্তু বুঝতে না পারলে গুগল তা র‍্যাংক করবে না। ক্লোজ ক্যাপশান তাতে সাহায্য করে বলেই মনে হয়।
  • মনোযোগ। অনেকেই কোলাহলপূর্ণ বা শব্দ করা অনুচিত, এমন জায়গায় বসে ভিডিও দেখে। আবার পৃথিবীর ৫% মানুষ কোনো না কোনো মাত্রায় শ্রুতিবৈকল্যে ভোগেন। ক্লোজড ক্যাপশান থাকলে আপনার ভিডিও আরো বেশি মানুষের কাজে লাগবে। এতে এঙ্গেজমেন্ট বাড়ে, ফলে গুগলেও র‍্যাংকিং উঁচু হয়।

আর আপনার ভিডিও স্ক্রিপ্টেড থাকলে ক্লোজড ক্যাপশান ম্যানুয়ালি ঠিক করতে বেশি সময় লাগে না।

ধাপ ৪. আকর্ষণীয় একটি থাম্বনেইল যুক্ত করুন

চমৎকার থাম্বনেইলযুক্ত ভিডিও গুগল থেকে যত ক্লিক পাবে, বাজে থাম্বনেইলযুক্ত ভিডিও ততটা পাবে না।

“how to make pancakes” অনুসন্ধানের জন্য কিছু বাজে থাম্বনেইলযুক্ত ভিডিওর উদাহরণ:

video-1

এগুলো একে তো দেখতে বাজে এবং অনাকর্ষণীয়, তার ওপর প্যানকেকের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ডিম।

অনুসন্ধানকারীদের ক্লিক করতে লোভ জাগাবে, এমন থাম্বনেইল তৈরি করার কিছু বুদ্ধি শুনুন:

কাস্টম থাম্বনেইল ব্যবহার

ভিডিও থেকে ছবি তুলে আনবেন না। অনুসন্ধানকারীর মনোযোগ পাওয়ার উপযোগী করে একটি আকর্ষণীয় থাম্বনেইল বানিয়ে নিন।

অনুপাত ঠিক রাখুন

গুগল ভিডিও থাম্বনেইল দেখায় ১৬:৯ অনুপাতে। ফলে অন্য অনুপাতের থাম্বনেইলগুলো উদ্ভট দেখায়। এতে ক্লিক ছুটে যেতে পারে।

video-rank-2

সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ব্যবহার করুন

এমন একটি থাম্বনেইল বসান, যাতে অনুসন্ধানকারী চাক্ষুস দেখতে পায় যে, এই ভিডিও তার আগ্রহ মেটাবে।

যেমন, “how to tie a tie,” অনুসন্ধান করে এমন থাম্বনেইল দেখতে পেলে ভালো লাগবে, কারণ এখানে সত্যিই টাই বাঁধতে দেখা যাচ্ছে:

Video-rank-3

অন্যদিকে এটা অতটা ভালো লাগবে না, কারণ বাচ্চাটা যে আদৌ টাই পরে আছে, তা বোঝাই যায় না:

Video rank 4

সুবিধামতো কন্ট্রাস্ট ব্যবহার করুন

থাম্বনেইলের ক্ষেত্রে সাদা, ধূসর, আর লাল জাতীয় রঙ এড়িয়ে যান। কারণ এগুলো অনুসন্ধান ফলাফলের সাথে মিশে থাকে। বরং ভিন্নধর্মী ও চোখে পড়ার মতো রঙ দিন।

আমরা কালচে নীল ও কমলা ব্যবহারক করি।

Video-rank-5

থাম্বনেইলে প্রাসঙ্গিক লেখা দিন

আমাদের সব ইউটিউব ভিডিওতে আমরা এমনটা করি। যেমন্ম এসইও শেখা সংক্রান্ত আমাদের ভিডিওর থাম্বনেইলে “Learn SEO” কথাটা আছে।

Video-rank-6

সাধারণত আমরা সংক্ষেপে এমন কথা বসাই, যা ভিডিওর শিরোনামের সাথে মানানসই।

যা-ই লিখবেন, সহজে পড়ার মতো এবং ছোট-বড় সব আকারে ভালো দেখা যায়, এমন ফন্টে লিখুন।

ধাপ ৫. টাইমস্ট্যাম্প যুক্ত করুন

একটু আগে আমরা অল্প কথায় “key moments” এর কথা বলেছি, যা গুগল কখনও কখনও অনুসন্ধান ফলাফলে দেখায়।

Video-rank-7

এ প্রসঙ্গে গুগল বলে:

কয়েক ধাপবিশিষ্ট how-toধর্মী ভিডিও, বক্তৃতা বা ডকুমেন্টারির মতো লম্বা ভিডিও অনুসন্ধান করলে, অনুসন্ধান ফলাফলে ভিডিওর ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের লিংক দেখানো হবে […] আপনি যা খুঁজছিলেন, তা ওই ভিডিওতে আছে কি না তাও সহজে বুঝবেন, আবার চট করে ওই অংশে চলেও যেতে পারবেন।

গুগল আরো বলে:

আপনার ভিডিও ইউটিউবে হোস্টেড হলে গুগল সার্চ আপনার ইউটিউব ভিডিওর ডেসক্রিপশান অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ভিডিওর জন্য ক্লিপ চালু করে দিতে পারে। ইউটিউব ডেসক্রিপশানে বিশেষভাবে টাইমস্ট্যাম্প না-ও দেওয়া লাগতে পারে। তবে আপনি চাইলে আমাদের নির্দিষ্ট করে বলে দিতে পারেন যে, ভিডিওর কোন কোন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আছে। আমরা ওই তথ্যই ব্যবহার করব।

মোটকথা, আপনি নিজে ইউটিউব ডেসক্রিপশানে লিখে দিলে গুগলের “key moments” দেখানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সেক্ষেত্রে timestamps এবং labels ব্যবহার করুন।

  • টাইমস্ট্যাম্প কী? একটি ক্লিপ কখন শুরু হয়, তা [hour]:[minute]:[second] ফরম্যাটে লিখা. দরকার না থাকলে [hour] অংশটি বাদ দিয়ে দিতে পারেন। ভিডিও টাইমস্ট্যাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিংকড হয়ে যায়।
  • লেবেল কী? ক্লিপের সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট বর্ণনা।

টাইমস্ট্যাম্প ও লেবেলের একটি উদাহরণ দেখতে পারেন ইউটিউব এসইও নিয়ে আমাদের ভিডিওতে।

seo1

এই নয়টি টাইমস্প্যান দর্শকদের ভিডিওর ওই প্রাসঙ্গিক জায়গাগুলোতে নিয়ে যাবে।

দৃশ্যত এই অপ্টিমাইজেশানের কারণেই গুগল এখন “how to rank YouTube videos” অনুসন্ধানের জন্য আমাদের ভিডিওর “key moments” দেখায়।

Video-rank-8

গুগল শীটস দিয়ে লিংক নির্মাণ করা সংক্রান্ত ভিডিওর ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।

Video-rank-9

টাইমস্ট্যাম্প ও লেবেল যুক্ত করা নিয়ে কিছু পরামর্শ:

  • ভিডিও ডেসক্রিপশানে টাইমস্ট্যাম্প যুক্ত করুন, পিন করা কমেন্টে না।
  • প্রতিটি টাইমস্ট্যাম্প আলাদা আলাদা লাইনে লিখুন। একই লাইনে লেবেল দেখিয়ে দিন।
  • লেবেল যেন সংক্ষিপ্ত কিন্তু পূর্ণাঙ্গ হয়। লেবেল হতে হবে ওই অংশটি কী নিয়ে, তার ব্যাপারে সোজাসাপ্টা বিবৃতি। (যেমন, “Boil the pasta” এভাবে। “Put your pasta in the pan and cook it for 10–15 minutes until al dente” এভাবে না।)
  • টাইমস্ট্যাম্প ক্রমানুসারে দিন। পরেরটা আগে আনবেন না।
  • লেবেল যেন ৪০ ক্যারেক্টার বা তার কম হয়। এরচেয়ে বড়গুলো গুগল কেটেছেঁটে দেখায়।
  • অতিরিক্ত টাইমস্ট্যাম্প দেবেন না। অনুসন্ধান ফলাফলে গুগল কতটি টাইমস্ট্যাম্প দেখাবে, তার কোনো সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন সংখ্যা তারা উল্লেখ করেনি। কিন্তু একশটা থাকলে অতগুলো যে দেখাবে, এমনটা হওয়ার কথা না। আমাদের মতে, একটি ভিডিওতে মোটামুটি দশটির বেশি থাকা উচিত না।
  • লেবেলের সাথে পর্দার দৃশ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন। লেবেলে যদি বলা থাকে “Chop the onion,” তাহলে এমন টাইমস্ট্যাম্প যুক্ত করার চেষ্টা করুন, যেখানে পেঁয়াজ কাটার দৃশ্যই আছে।

খেয়াল করুন, “key moment” ফলাফল বর্তমানে শুরু ইউটিউব ভিডিওর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্যখানে হোস্টেড ভিডিওর ক্ষেত্রে তাই এটি খাটবে না।

কিন্তু গুগল বলেছে যে, তারা অন্যান্য ভিডিওর জন্যও অতিশীঘ্রই এই সুবিধা চালু করার কথা ভাবছে।

ওয়েবের আরো কন্টেন্ট নির্মাতাদের ভিডিও মার্কআপ করার জন্যও আমরা একটি রাস্তা বের করার চেষ্টা করছি, যাতে সেগুলো সহজে অনুসন্ধানযোগ্য হয়। শীঘ্রই CBS Sports আর NDTVর ভিডিওতেও আপনার key moments দেখতে পাবেন, যেহেতু তারাও তাদের ভিডিওতে মার্কআপ যুক্ত করে।

বোনাস পরামর্শ: ভিডিও ব্যবহার করে আরো বেশি ওয়েবসাইট ট্রাফিক লাভ

ভিডিও এসইওর কাজ কেবল গুগল থেকে ইউটিউব ভিডিওতে ভিউ বাড়ানো না। ভিডিও ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটে অর্গানিক অনুসন্ধান থেকে আরো বেশি ট্রাফিক পাওয়াও উদ্দেশ্য।

এ নিয়ে তিনটি পরামর্শ:

১. টপ-র‍্যাংকিং পৃষ্ঠায় প্রাসঙ্গিক ভিডিও এম্বেড করুন

গুগলে একটি “Videos” ট্যাব আছে, যেখানে দুই ধরনের ফলাফল থাকে:

  • প্রাসঙ্গিক ইউটিউব ভিডিও;
  • প্রাসঙ্গিক ভিডিও এম্বেড সহ অর্গানিক ফলাফল থেকে আসা পৃষ্ঠা

দ্বিতীয়টা গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ আপনি যদি গুগলে ইতোমধ্যে উঁচু র‍্যাংকিংয়ে থাকেন, তাহলে আপনি একটি প্রাসঙ্গিক ভিডিও এম্বেড করে সেই পৃষ্ঠাগুলো গুগলের “Videos” ট্যাবে দেখাতে পারবেন।

কেউ এই ফলাফলগুলোর কোনোটিতে ক্লিক করলে গুগল তাদের আপনার ওয়েবসাইটে পাঠাবে—ইউটিউবে না।

Video-rank-10

সত্যি বলতে গত তিন মাসে ভিডিও এম্বেড আমাদের ব্লগে গুগল থেকে ২৫,০০০এরও বেশি ভিজিট এনে দিয়েছে:

Video-rank-11

তাহলে প্রাসঙ্গিক ভিডিও এম্বেড করার জন্য সেরা পৃষ্ঠাটি কীভাবে বাছাই করবেন?

সহজ। Google Search Console-এ “Search Results” রিপোর্টে যান।  “pages” ট্যাবে ক্লিক করুন। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন ক্লিকসংখ্যার ভিত্তিতে ফলাফলগুলো সর্ট করুন। গত কয়েক মাসে কোন পৃষ্ঠাগুলো গুগল থেকে সর্বাধিক ট্রাফিক পেয়েছে, তা দেখতে পাবেন।

Video-rank-12

সার্চ কনসোল ব্যবহার করেন না?

Ahrefs’ Site Explorer-এ আপনার ডোমেইন পেস্ট করে “Top Pages” রিপোর্টে গিয়ে আনুমানিক সর্বোচ্চ ট্রাফিকধারী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন।

একইরকম বিষয়ে আপনার কোনো প্রাসঙ্গিক বা দরকারি ভিডিও আছে, এমন পৃষ্ঠাগুলো খুঁজুন। তারপর যখন ও যেখানে দরকার, সেখানে সেই ভিডিও ওই পৃষ্ঠায় এম্বেড করে দিন।

যেমন, ইউটিউব ট্যাগের ব্যাপারে আমাদের নির্দেশিকা আমাদের সবচেয়ে টপ যযাতিগুলোর একটি। মাসে প্রায় ২৪০০ সার্চ ভিজিট পড়ে এতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এটি গুগলের “videos” ট্যাবে আসে না। কারণ ইউটিউব ট্যাগ নিয়ে এখনও আমাদের এমন কোনো ভিডিও নেই, যা এই যযাতিতে এম্বেড করা যায়।

তবে ইউটিউব এসইও নিয়ে কিন্তু আমাদের একটি প্রাসঙ্গিক ভিডিও আছে। তাই যযাতির শেষে সেটাই বরং আমরা এম্বেড করে দিই।

Video-rank-14

এর অল্প কাল পরেই আমাদের পৃষ্ঠাটি “YouTube tags” অনুসন্ধানের “videos” ট্যাবে চলে আসে:

Video-rank-15

অল্প কিছুদিনের মাঝেই এটি আমাদের কিছু ক্লিক এনে দিয়েছে।

Video-rank-16

২. এম্বেডেড ভিডিওর জন্য স্কিমা মার্কআপ যুক্ত করুন

গুগল কখনও কখনও এম্বেডেড ভিডিওযুক্ত ওয়েব পেইজের জন্য video rich results দেখায়।

Video-rank-17

দেখতে পাচ্ছেন “Chicago weather” অনুসন্ধানের জন্য “video rich results”।

কিন্তু গুগল বলে যে, সঠিক schema কোড ব্যবহার করে এম্বেডেড ভিডিও মার্কআপ করা না থাকলে কোনো পৃষ্ঠা এই ধরনের ফলাফলের উপযোগী হয় না:

ভিডিও রিচ রেজাল্ট হিসেবে প্রদর্শিত হওয়ার জন্য আপনার কন্টেন্টে অবশ্যই প্রয়োজনীয় VideoObject প্রপার্টিজ যুক্ত করতে হবে।

আমরা খেয়াল করে দেখেছি, বিষয়টা অত কড়াকড়ি না।

আপনার এম্বেডেড ভিডিও ইউটিউবে হোস্টেড হলে গুগল প্রায়ই ভিডিও রিচ রেজাল্ট দেখায়, এমনকি VideoObject স্কিমা মার্কআপ না থাকলেও।

যেমন, এম্বেডেড ইউটিউব ভিডিও সহ একটি মিডিয়াম যযাতির ভিডিও রিচ রেজাল্ট দেখুন:

Video-rank-17

Google’s Structured Data Testing tool দিয়ে সেই ইউআরএল চেক করলে দেখব সেই পৃষ্ঠায় কোনো VideoObject markup নেই।

Video-rank-18

তারপরও গুগল এম্বেডেড ভিডিওর জন্য মার্কআপ যুক্ত করার ওপর জোর দেয়, হোক না তা ইউটিউবে হোস্টেড।

টীকা. নিজস্ব সাইটে ভিডিও হোস্ট করে থাকলে গুগলের অবশ্যই  VideoObject markup দেখতে পেতে হবে, যাতে সে সেগুলোকে ভিডিও রিচ ফলাফল হিসেবে গণ্য করতে পারে।

WordPress ব্যবহার করলে Schema & Structured Data for WP & AMP এর মতো কোনো free plugin ব্যবহার করে সহজেই এই মার্কআপ যুক্ত করতে পারবেন। ইন্সটল হয়ে গেলে মেনুতে Structured Data > Schema types -এ যান।

Video-rank-19

তারপর “Add Schema type” বোতাম চাপুন।

Video-rank-20

ড্রপডাউন থেকে আবারো “VideoObject” নির্বাচিত করে আবার “Next” চাপুন।

Video-rank-21

“Post type” dropdown ক্লিক করে “Show globally” নির্বাচিত করুন।

শেষবারের মতো “next” চাপুন, কাজ শেষ।

এবার যেখানেই কোনো যযাতি বা পৃষ্ঠা সম্পাদনা করছেন, সেখানেই সম্পাদনার নিচে “Modify current schema” বলে একটি বিকল্প থাকবে।

ক্লিক করুন, toggle VideoObject markup on বা off করার বিকল্প attributes যুক্ত করার বিকল্প দেখতে পাবেন।

গুগলের মতে যেসব জায়গা ভরাট করতেই হবে, সেগুলো হলো:

  • Name;
  • Description;
  • Upload Date;
  • Thumbnail Url

বাকি সব জায়গা খালি রাখলেও চলবে। যদিও duration এর মতো দরকারি জায়গাগুলো ভরাট করলে ভালো।

WordPress ব্যবহার না করে থাকলে এই ভিডিওটি দেখুন এবং schema.org VideoObject documentation পড়ুন। তাহলে তা ম্যানুয়ালি যুক্ত করার নিয়ম শিখতে পারবেন।

মার্কআপ ঠিকমতো যুক্ত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে Google’s Structured Data Testing tool ব্যবহার করুন।

৩. এম্বেডযুক্ত “thin” পৃষ্ঠায় লিখিত রূপ যুক্ত করুন

কোনো ওয়েব পেইজে অল্প বা বিনা টেক্সটে ভিডিও এম্বেড করার পরিকল্পনা থাকলে একটি লিখিত টেক্সটের পাশাপাশি তা প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।

Moz তাদের Whiteboard Friday ভিডিওগুলোর ক্ষেত্রে এ কাজটাই করে। আর সেগুলোর কোনো কোনোটা গুগল থেকেও প্রচুর ট্রাফিক পায়।

Video-rank-25

টীকা. Moz এর ভিডিওগুলো ইউটিউবে হোস্টেড হয় না, তবে কথা একই।

UX দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কারণ কিছু ভিজিটর ভিডিও দেখার চেয়ে লেখা পড়তে বেশি পছন্দ করে—আর গুগল চায় যথাসম্ভব বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে আবেদনকারী কন্টেন্ট র‍্যাংক করতে।

ট্রান্সক্রিপ্ট ভার্বাটিম একদম কপি পেস্ট করে দেবেন না। কপিটি ব্লগ পোস্টের মতো করে সম্পাদনা ও ফর্ম্যাট করুন। উপশিরোনাম যুক্ত করুন, ছবি বসান। যারা ভিডিওর চেয়ে টেক্সট বেশি পছন্দ করে, তাদের জন্য ভালো বিকল্প হবে প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টটি।

যাবার আগে

ভিডিও এসইও একটি গতিশীল বিষয়। কারণ অনুসন্ধান ফলাফলে গুগল যেভাবে ভিডিও প্রদর্শন করে, তা সারাক্ষণ পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু দুটো “জাদুর কাঠি” সবসময়ই অপরিবর্তিত থাকে:

  • ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ও আগ্রহোদ্দীপক ভিডিও তৈরি করুন;
  • গুগল যাতে কন্টেন্টটি আরো ভালো করে বুঝতে পারে, ওয়েব অনুসন্ধান ফলাফলে আপনার ভিডিওটি দেখাতে পারে, তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করুন।

Source: https://ahrefs.com/blog/video-seo