কার্টুনের ঐ যে ব্যাটমান আর রবিনের কথা মনে আছে? ওয়েবসাইটের পেইজের ব্যাকলিংককে যদি ব্যাটম্যান বলি, তাহলে ইন্টার্নাল লিংক হলো রবিন। SEO এর জন্যে ইন্টার্নাল লিংক খুবই জরুরি। কিন্তু এর কদর খুব কম ইউজারই করেন।

তো ইন্টার্নাল লিংক আসলে কী?

একই ডোমেইনে এক পেইজ থেকে আরেক পেইজের লিংকই হলো ইন্টার্নাল লিংক।

সব ওয়েবসাইটই এটা ব্যবহার করে। কিন্তু অনেকেই বোঝেন না, যে এই ইন্টার্নাল লিংককে যদি পরিকল্পনামাফিক ব্যবহার করা যায়, তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

এইখানে এই কেইস স্টাডিতে Ninja Outreach দেখিয়েছে, কীভাবে তারা ইন্টার্নাল লিংক ব্যবহার করে সাইটের অর্গানিক রিচ ৪০% বাড়িয়ে ফেলেছে।

ninja-outreach

<চিত্রে Ahrefs Site Explorer ব্যবহার করে ইন্টার্নাল লিংক এর ওপর কাজ করার সময় নিনজা আউটরিচের ট্রাফিক গ্রোথ>

এই লেখায় আমরা জানতে পারবো কেন ইন্টার্নাল লিংক সফল SEO এর জন্য ব্যপক জরুরি আর কীভাবে আপনার সাইটের জন্য একটা জবরদস্ত ইন্টার্নাল লিংক স্ট্র্যাটিজি তৈরি করতে পারেন।

এখানেই শেষ নয়, আমরা আরো জানবো –

১) ব্রোকেন ইন্টার্নাল লিংক কীভাবে মেরামত করবেন
২) ইন্টার্নাল লিংক রিডিরেক্ট কীভাবে মেরামত করবেন
৩) অদরকারি পেইজের ইন্টার্নাল লিংক কীভাবে সরিয়ে নেবেন
৪) জরুরি ডিপ-লিংকড ইন্টার্নাল পেইজ কীভাবে সারাবেন
৫) অর্ফেন পেইজ এর ঝামেলা কীভাবে দূর করবেন

তবে, প্রথমেই আসি বেসিক আলাপে।

SEO এর জন্য ইন্টার্নাল লিংক কেন জরুরি?

গুগল ইন্টার্নাল লিংক দিয়ে নতুন কন্টেন্ট খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।

ধরুন আপনি একটা নতুন পেইজ খুলেছেন কিন্তু সাইটের কোনখান থেকে লিংক করতে ভুলে গেছেন। যদি ধরে নিই যে আপনার পেইজটি আপনার সাইটম্যাপে নেই, আর কোন ব্যাকলিংকও নেই, তাহলে গুগল জানবেই না যে এমন কোন পেইজ আছে। কারণ ওয়েব ক্রলার সেটাকে খুঁজে পাবে না।

দেখুন গুগল কী বলছে…

“গুগল অবশ্যই প্রতিনিয়ত নতুন পেইজ খুঁজে বেড়াবে আর নৌন পেইজের লিস্টে যোগ করবে। কিছু পেইজ এমনিতেই নৌন লিস্টে থাকে কারণ গুগল আগে থেকেই সেসব পেইজ চেনে। আর অন্যান্য পেইজ তখনই খুঁজে পায় যখন নৌন পেইজগুলোর লিংক এর মাধ্যমে নতুন কোন পেইজে যাওয়া যায়।”

 

কোন রকম ইন্টার্নাল লিংক নাই, এমন সব পেইজকে অর্ফেন পেইজ বলে। এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত আলাপ হবে।

আপনার পেইজ র‍্যাংক এর ফ্লো বাড়াতে কিন্তু ইন্টার্নাল লিংকের জুড়ি নেই। পেইজে যত বেশি ইন্টার্নাল লিংক, তত উপরে পেইজ র‍্যাংক। তবে গাদা-গাদা ইন্টার্নাল লিংক দিলেই হয় না, লিংকগুলো মানসম্পন্নও হতে হয়।

এইখানে একদম সোজা-সাপ্টাভাবে পেইজ র‍্যাংক কীভাবে কাজ করে দেখানো হয়েছে।

how-pagerank-works

পেইজ র‍্যাংক এর ব্যাপারে অল্প কথা

গুগল ২০১৬ তেই পেইজ র‍্যাংক এর পাবলিক স্কোর দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের র‍্যাংকিং এলগরিদমে পেইজ র‍্যাংক যথেষ্ট জরুরি। কীভাবে জানলাম? কারণ তারাই বলেছে।

 

এর একটা কারণ হতে পারে গুগলের এই বক্তব্যঃ

“একটা নির্দিষ্ট পেইজের দিকে অনেক ইন্টার্নাল লিংক ডিরেক্ট করলে সার্চ ইঞ্জিনের জন্যে এটা একটা সিগনাল যে পেইজটা যথেষ্ট দরকারি”

গুগল এমনকি কনটেক্সট বোঝার জন্য ইন্টার্নাল লিংক এর এংকর টেক্সট-এর দিকেও নজর দেয়। জন মুলার এর এই টুইটখানা দেখুন।

tweet

ব্যাপারটা হলো, ধরুন আপনার Blue Widget এর ওপর একটা পেইজ আছে। এখন সেই পেইজে বিভিন্ন এংকরের মাধ্যমে আপনার একাধিক ইন্টার্নাল লিংক আছে। যেমন Widget, Blue Widget বা Buy Blue Widget ইত্যাদি। এটা গুগলকে আপনার পেইজ এর ব্যাপারে বুঝতে সাহায্য করে। যেমন

১) পেইজটা ব্লু উইজেটের ব্যাপারে
২) ব্লু উইজেট বা অন্য কাছাকাছি টার্ম এর জন্য হয়তো র‍্যাঙ্ক করার যোগ্যতা এই পেজ রাখে।

এখানে ‘হয়তো’ কেন ব্যবহার করলাম? কারণ নির্দিষ্ট টপিকে পেইজ হলেই তা রিলেভেন্ট কী-ওয়ার্ডের এর জন্য র‍্যাঙ্কড হবে, এমন কোন কথা নেই।

ভালো কথা, গুগল বলছে ইন্টার্নাল লিংক এর স্ট্রাকচার কিন্তু সাইটলিংককে এফেক্ট করতে পারে। তেমন ভয়ানক কিছু না, তবে জেনে রাখা ভালো আর কি।

এখন আপনি নিশ্চই ভাবছেন, “আমি যদি ব্লু উইজেটের জন্য পেইজ র‍্যাংক করাতে চাই, তাহলে আমি ব্লু উইজেটের পেইজে এংকর টেক্সটের মাধ্যমে যত পারি তত ইন্টার্নাল লিংক পাঠালেই তো হয়!”

কথা হয়তো ঠিক, তবে এইভাবে যেই পেইজ দাঁড়াবে, সেটা আসলেই লো-কোয়ালিটির আগডুম-বাগডুম ইন্টার্নাল লিংক এর বাজার হয়ে যাবে।

কেইসঃ

একটা লো-কোয়ালিটি লিংক কীভাবে জোর করে বসিয়ে দেয়া যায়, তার একটা উদাহরণ।

স্মার্ট চিন্তা করা উচিৎ। সবকিছুই একদম প্রথমে সেট করা সাইট স্ট্রাকচারের সাথে মিল থাকা চাই।

Offer

একটি আদর্শ  ইন্টার্নাল লিংক স্ট্রাকচার কীভাবে তৈরি করবেন?

ধরুন আপনার ওয়েবসাইটটি একটা পিরামিড। সবচে দরকারি কন্টেন্ট একদম ওপরে, আর সবচে অপ্রয়োজনীয় কন্টেন্ট সবার নিচে।

প্রায় সব ওয়েবসাইটেই পিরামিডের একদম ওপরে হোমপেইজ থাকে। এর নিচে থাকে সেটা থেকে একটু কম দরকারি পেইজ – About Us, Services, Products, Blog ইত্যাদি। এইসব পেইজের প্রত্যেকটার নিচে আবার মোটামুটি দরকারি কিছু পেইজ থাকে, যেমন Service Page, Blog Post ইত্যাদি। তবে পিরামিডের এক লেভেলের সব পেইজ আবার অন্য লেভেলের সব পেইজের সাথে লিংক করে দেবেন না। কীসের সাথে কী যায়, সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে।

সিলোয়িং এর খেলা

একই টাইপ টপিকের বিভিন্ন পেইজকে ইন্টার্নাল লিংক এর মাধ্যে গ্রুপ করে ফেলার সিস্টেমকে সিলোয়িং বলে। ধরুন, আমাদের একটা ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিভিন্ন দেশ আর শহরের ব্যাপারে এইসব পেইজে আলাপ আছে।

hypothetical-website-pages

দেখতেই পাচ্ছেন এই সাইটের পেইজগুলো দু’টো সাধারণ গ্রুপের মধ্যে পড়ে।

  • দেশের ব্যাপারে পেইজ
  • শহরের ব্যাপারে পেইজ

সেক্ষেত্রে আপনি সিলোয়িং করবেন এভাবে।

internal-links

বুঝা গেল?

প্রত্যেকটা দেশের পেইজ সেখানকার শহরের পেইজগুলোর জন্য একটা হাব হিসেবে কাজ করবে (উল্টোটাও হতে পারে)। এইভাবে একটা টপিক ক্লাস্টার গড়ে ওঠে। টপিক ক্লাস্টার হলো কাছাকাছি টপিকের একাধিক পেইজ এক গ্রুপে চলে আসা।

এতে লাভ কী? আছে।

  • ইউজার খুব সহজেই আপনার সাইট ন্যাভিগেট করতে পারবে
  • ক্রলারদের জন্য আপনার সাইট স্ট্রাকচার বোঝা সহজ হবে
  • আপনার সবচে জরুরি পেইজগুলোতে আরো বেশি অথরিটি পাবেন। কারণ সাব-পেইজ হাব-পেইজে লিংক ব্যাক করবে। হাব-পেইজও সাব-পেইজে তাই করবে।

এছাড়া আরো একটা উপকার আছে। এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের পক্ষে আপনার কন্টেন্ট এর কন্টেক্সট বুঝতে সহজ হয়।

ধরুন আমার এই পেইজটা আছ। domain.com/squash

তো এখন বলুন তো, আমার পেইজটা কী নিয়ে? Butternut Squash? খেলা-ধূলা? Squash? কীভাবে বুঝবেন?

তাহলে খেয়াল করুন, পেইজটা হলো এই সিলো এর একটা অংশ।

how-silos-help-search-engines

এবার আপনার কী মনে হচ্ছে?

আরেকটা উপকার হলো, যেহেতু আপনি টপিকালি রিলেটেড পেইজে আর পেইজ থেকে লিংক করছেন, এতে আপনি চাইলে রিলেটেড এংকর টেক্সট দিয়েও লিংক করতে পারবেন।

যেমন, যে কোন ফ্রুট বা ভেজিটেবল পেইজ থেকে আমার পেইজে আমি ‘স্কোয়াশ’ এংকর টেক্সট দিয়ে লিংক করতে পারবো। এটা একদম রিলেভেন্ট। আগে যেমনটা বলেছি, এইভাবে করলে আর লিংক জোর করে খাপ খাওয়াতে হয় না।

আরও পড়ুন…

আপনার ইন্টার্নাল লিংক এর কোন সমস্যা আছে কি না কীভাবে বের করবেন?

তো এতক্ষণ যা বললাম, সবই ঠিক আছে। কিন্তু আপনি যদি একেবারে স্ক্র্যাচ থেকে সাইট না বানিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার সাইট এতটা গোছালো থাকবে না। এই জন্যে দরকার আপনার সাইটে এখন যা ইন্টার্নাল লিংক আছে, তা নিয়ে একটু ঘসামাজা করা। এটা আবার অত কঠিন কাজও না। শুধু Ahrefs Site Audit Tool এ গিয়ে একটা ক্রলিং চালালেই হবে। নিচে দেখুন কীভাবে ক্রলিং করবেন।

[সাইড নোটঃ নিচে যা যা করার কথা এসেছে, তা সেসব কিন্তু ক্রলিং ছাড়াও করা সম্ভব। এটা আমরা সামনে উল্লেখ করবো। তবে আমাদের পরামর্শ থাকবে Ahrefs Site Audit Tool ব্যাবহার করে ক্রলিং করে তারপর করলেই ভালো। এতে একদম ফ্রেশ ডাটা পাবেন।]

ক্রলিং শেষে এই পাঁচটি জিনিস খুঁজে দেখুন।

১. ব্রোকেন ইন্টার্নাল লিংক

Site Audit > Internal pages > 4XX page

4xx-site-audit-1

এই রিপোর্টের মাধ্যমে আপনার সাইটের সব ব্রোকেন ইন্টার্নাল লিংক আপনি দেখতে পাবেন। এই ব্রোকেন লিংক গুলো কিন্তু আপনার লিংক ইকুইটি নষ্ট করে আর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এর বারোটা বাজায়।

আমাদের পরামর্শ থাকবে ‘No. ofinlinks’ কলামটা হাই থেকে লো সেট করার, এতে করে বেশি ইন্টার্নাল লিংক পয়েন্ট করা পেইজ গুলো অগ্রাধিকার পাবে।4xx-sort-1

তো এই সমস্যা সমাধানের কিছু উপায়ঃ

১) ব্রোকেন পেইজগুলো আবার আগের URLএ বসিয়ে দিন (যদি ডিলিট হয়ে গিয়ে থাকে)
২) ব্রোকেন পেইজকে অন্য রিলেভেন্ট URL এ রিডিরেক্ট করে দিন। সেখানে পয়েন্ট করা সব ইন্টার্নাল লিংক আপডেট করুন অথবা মুছে ফেলুন।

আপনি যদি ২ নং সলিউশানের দিকে যান, তাহলে ব্রোকেন পেইজের সব ইনলিংক আপনি ‘No. ofinlinks’ কলামের করেস্পন্ডিং নাম্বার এ ক্লিক করে পেয়ে যাবেন।

এটা আপনাকে রেফারিং পেইজ আর এংকর টেক্সট বলে দেবে যাতে সহজেই তা খুঁজে পেয়ে আপডেট করতে পারবেন।

 

টিপসঃ

ক্রল করার সময় নাই? এটা ট্রাই করুন।

Site Explorer > আপনার ডোমেইন বসান > Best by links > একটা404 filter এড করুন > সুইচ করুন “internal” links > সর্টকরুনdofollow internal links হিসেবে

internal-links-site-explorer

নোটঃ এখানে nofollow internal links হিসেবেও সর্ট করা উচিত। সব কটা ব্রোকেন লিংক মেরামত করা উচিত। ইন্টার্নাল লিংক নাম্বারের ওপর ক্লিক করলেই মূল লিংক গুলো পেয়ে যাবেন। লেখার সময় ম্যানুয়াল ক্রলিং না করে এইভাবে ইন্টার্নাল লিংক ডাটা আর কোন টুল শো করে না। এটা এর ইউনিক ফিচার আর প্রচুর সময় বাঁচায়।

 

২. পেইজ রিডিরেক্ট করার জন্য ইন্টার্নাল লিংক

Site Audit > Internal pages > 3xx redirect

3xx-site-audit-1

এই রিপোর্টটা আপনার সাইটের সবকটা রিডিরেক্ট পেইজ দেখাবে।

“No. of inlinks” দিয়ে সর্ট করুন। হাই থেকে লো সিলেক্ট করুন যাতে বেশি ইন্টার্নাল লিংক পয়েন্ট করা পেইজগুলো আগে আসে।

তবে একটা কথা হলো, রিপোর্টের সবগুলোই কিন্তু দুশ্চিন্তা করার মত কিছু না। কিছু আছে যেমন মুভড বা রিডিরেক্ট পেইজে লিংক পয়েন্ট করে (যেমন, http://domain.com/blog → https://domain.com/blog), সেক্ষেত্রে আসলে চিন্তার কিছু নেই।

তারপরেও এইসব রিডিরেক্ট আপডেট করে ‘লিংক হপ’ রিমুভ করে দেয়া ভালো।

যাই হোক, এমন পেইজগুলোর দিকে নজর দিন, যেগুলো অপ্রয়োজনীয় কিছুর দিকে রিডিরেক্ট করে।

একটা কেইসঃ

এখানে ২০ টা ইন্টার্নাল লিংক দেখা যাচ্ছে। সবই একটা জুতার ব্র্যান্ডের লিংক যা সাধারণ Women Shoe পেইজে রিডিরেক্ট করছে। আরো বাজে ব্যাপার হলো, number of inlinks এ ক্লিক করলে এংকর টেক্সট হিসেবে “Jeffrey Campbell” আসে, যেটা আসলে ব্র্যান্ডের নাম। এটা মিসলিডিং। এটা হয় মুছতে হবে নতুবা আপডেট করতে হবে।

jeffret-campbell

টিপস

ক্রল রান করার সময় নেই? সমস্যা নেই। Site Explorer এ গিয়ে ইন্টার্নাল লিংক ডাটা এনালিসিস করা যায়।

Site Explorer > domain বসান > Best by links > 301 ফিল্টার এড করুন > “internal” links এ সুইচ করুন > dofollow internal links দিয়ে সর্ট করুন

301-broken-internal-links-site-explorer

তাছাড়া nofollow internal links ও চেক করা উচিৎ আর ঠিক-ঠাক করা উচিৎ

 

৩. অপ্রয়োজনীয় পেইজে অনেক ইন্টার্নাল লিংক

Site Audit > Internal pages > 2xx

http-200-site-audit

এই রিপোর্টে আপনার সাইটের ওয়ার্কিং পেইজগুলো দেখাবে। No of inlinks (হাই থেকে লো) দিয়ে সর্ট করুন, এর পর লিস্ট স্কিমিং দিয়ে শুরু করুন। যদি অনেক ইন্টার্নাল লিংকসহ কোন অপ্রয়োজনীয় পেইজ দেখেন, লিংক মুছে ফেলুন। কিছু পেইজ বরং ডিলিট করে দিলেই ভালো।

এই যে দেখুন এই সিস্টেমে কী কী বের হয়।

whats-new-internal

এই ব্লগ পোস্টটা হচ্ছে what’s new in June নিয়ে লেখা। অর্থাৎ জুনের আগে বা জুনে এই পেইজ খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু জুনের পরে জানুয়ারিতে এসে দেখা যাচ্ছে সেই পেইজে ১৬ টা ইন্টার্নাল লিংক রয়েছে যেখানে খুব একটা ট্রাফিকও নেই, আর পোস্টটা তেমন কাজেও আর আসে না। তাই সেই লিংক গুলো রিমুভ করে দিলেই ভালো।

প্রো টিপস

আপনি চাইলে ‘dofollow’ inlink দিয়ে সর্ট করে কলাম কাস্টোমাইজ করতে পারেন। এতে অনেক internal nofollow লিংকসহ পেইজ, যেমন হোমপেইজ সহজেই চলে আসবে।)

তাছাড়া অনেক ইন্টার্নাল লিংকসহ non-indexable পেইজ খুঁজে বের করাটাও জরুরি। বিশেষ করে সেসব যদি ‘dofollow’ হয়। সাইট অডিটের ডাটা এক্সপ্লোরার দিয়ে এই কাজটা আপনি করতে পারেন। নিচের ফিল্টারগুলো ব্যাবহার করুন।

data-explorer-presets

 

এইসব লিংক যদি নেভিগেশানে সাহায্য না করে থাকে, তাহলে এসব শুধু আপনার লিংক ইকুইটি নষ্টই করবে।

তাছাড়া, পেইজগুলো যদি “noindex, follow,” তে সেট করা থাকে, ধীরে ধীরে গুগল সেগুলোকে “noindex, nofollow” করে নেবে। এর ফলে আপনার পেইজগুলোর মাধ্যমে যে লিংক জুস-এর ফ্লো, সেটা ব্যহত হবে। তাই সেগুলোতে ‘dofollow’ দিয়ে ইন্টার্নাল লিংকিং না করাই ভালো।

টিপসঃ

সাইট এক্সপ্লোরারে এটাও করা যায়।

Site Explorer > domain বসান > Best by links > 200 filter এড করুন > “internal” links এ সুইচ করুন > dofollow internal links দিয়ে সর্ট করুন।

site-explorer-internal-links-200

নোটঃ সাইট এক্সপ্লোরারে কোন পেইজ Indexable কি না সেটা জানার কোন সুযোগ নেই। সেটার জন্য সাইট অডিট ব্যবহার করা লাগবে।

 

৪. জরুরি ডিপ-লিংকড পেইজ

Site Audit > Internal pages > 2xx

depth-site-audit

আপনার সাইটের ওয়ার্কিং পেইজগুলো এই রিপোর্টে দেখাবে। Depth (High to Low) দিয়ে সর্ট করুন।আপনার সিড পেইজ (যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হোমপেইজই হয়) থেকে অনেক ক্লিক দূরে থাকা পেইজগুলো এখানে দেখতে পারবেন।

সাধারণভাবে, কোন জরুরি পেইজ যেটা ভালো রেভেনিউ আর্ন করে, কাজের কী-ওয়ার্ডকে টার্গেট করে – এরকম পেইজ যদি আপনার হোমপেইজ থেকে তিন লিংক হপের চাইতে বেশি দূরে থাকে, তাহলে আপনার ইন্টার্নাল লিংকিং স্ট্রাকচারকে চেঞ্জ করা উচিত যাতে সেগুলো আরো কাছাকাছি চলে আসে।

কেন এই কাজ করবেন তার কিছু ফিরিস্তিঃ

  • ডিপ-পেইজকে গুগল অপ্রয়োজনীয় হিসেবে ধরে নেবে, ফলে সেসব পেইজ সবসময় রি-ক্রল না করতে পারে।
  • একটা সাইটের সবচে’ অথরিটেটিভ পেইজ হলো হোমপেইজ। অন্য কোন পেইজ লিং হপের মাধ্যমে হোমপেইজের যত বেশি কাছে থাকবে, সেই পেইজে পেইজর‍্যাংক ট্রান্সফার তত বেশি হবে।

৫. অরফান পেইজ

Site Audit > Internal pages > Incoming links > Orphan page (has no incoming internal links)

site-audit-orphaned-pages

এই রিপোর্টের মাধ্যমে যেসব পেইজে কোন ইন্টার্নাল লিংক নেই, এমন পেইজ খুঁজে পাবেন। এগুলোকে অরফান পেইজ বলে। এতিম পেইজ আর কি।

সাইডনোটঃ এটা কাজ করার জন্য আপনাকে সাইটম্যাপ URL স্পেসিফাই করে দিতে হবে। অথবা ক্রল সেট আপ করার সময় “Auto-detect sitemaps” বক্স চেক দিয়ে দিতে হবে।

দু’টি কারণে জরুরি পেইজগুলোকে কিছুতেই অরফান পেইজ হতে দেয়া যাবে না।

১. গুগল সেগুলো খুঁজেই পাবেনা। গুগল সার্চ কনসোলে যদি সাইটম্যাপ সাবমিট করে থাকেন বা ক্রল্ড পেইজ থেকে ব্যাকলিংক থাকলে, তাহলে ভিন্ন কথা।

২. ইন্টার্নাল লিংক দিয়ে কোন পেইজ র‍্যাংক ট্রান্সফার হবে না। কোন লিংকই যেহেতু নেই।

 লিস্টটা ভালো করে ঘাঁটুন, কোন জরুরি পেইজ যেন এখানে চলে না আসে। যদি আপনার সাইটে অনেক বেশি পেইজ থাকে, তাহলে রিপোর্টটি অর্গানিক ট্রাফিক (হাই টু লো) দিয়ে সর্ট করুন। যেসব অরফান পেইজ অর্গানিক ট্রাফিক পায়, ইন্টার্নাল লিংক বসালে এর চাইতে অনেক বেশি ট্রাফিক পাবে।

 

পেইজ বুস্ট করতে কীভাবে কৌশলী উপায়ে ইন্টার্নাল লিংক ব্যবহার করবেন?

পেইজ অথরিটি বাড়ানোর জন্য কিন্তু ইন্টার্নাল লিংকই একমাত্র জরুরি বিষয় না। ব্যাকলিংক দিয়েও অনেক কাজ করা যায়।

best-by-links-power-pages

এই রিপোর্টে দেখুন, সবচে বেশি অথরিটি পেইজগুলোর, মানে যেগুলোর URL Rating বেশি, তাদের প্রচুর ব্যাকলিংক আছে। এটা ঠিক, যে এইসব পেইজে ইন্টার্নাল লিংকিং স্ট্রাকচারের মাধ্যমে ইন্টার্নাল লিংকও আছে, কিন্তু এক্সটার্নাল লিংকের কারণেই মূলত পেইজগুলো বেশি অথরিটি পেয়েছে।

হাই অথরিটি পেইজ থেকে বুস্ট লাগবে এরকম পেইজে ইন্টার্নাল লিংক করা একটা স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি।

তবে এটার অনেকগুলো মেথড আছে। অনেক মেথড জটিল আর লম্বাচওড়াও হতে পারে (spreadsheets, VLOOKUPS,)

তাই সহজে কার্যসিদ্ধির জন্যে আমরা এখানে দু’টি সহজ মেথড দেখবো।

প্রথম মেথডঃ একটা “Site:” সার্চ করুন

ধরুন, আপনি Image SEO নিয়ে একটা ব্লগ পোস্ট করলেন। পেইজে কিছু ইন্টার্নাল লিংক আপনি প্লেস করতে চান। কিন্তু কোত্থেকে লিংক দেবেন, বুঝবেন কীভাবে?

নিচের সার্চ অপারেটরে গুগলে সার্চ দিন।

site:yourdomain.com “keyword or phrase related to page”

“Image SEO” এর একটা উদাহরণ দেখি।

image-seo-google-search-ahrefs

এই সার্চ আপনার সাইটের নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ড বা ফ্রেইস মেনশন করে কিছু পেইজে রিটার্ন করে। এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আপনি নিশ্চই লক্ষ্য করছেন, যে আমাদের ৬ টা ব্লগ পোস্টে “image SEO” চলে এসেছে। কিন্তু আপনি যদি পেইজগুলো দেখেন, দেখবেন এই ওয়ার্ডগুলো সব আনলিংকড।

image-seo-wordpress-unlinked

বুঝতে পারছেন আমরা কোন দিকে যাচ্ছি? আমাদের image SEO গাইডে সুপার-রিলেভেন্ট এংকর টেক্সটসহ লিংক আনার জন্য এটা একদম পারফেক্ট একটা জায়গা। আমরা তা-ই করেছি।

লিংক আনার জন্য এটা কিন্তু একমাত্র জায়গা না। আরো ৪ টা পেইজ একই ফ্রেইস মেনশন করে, গাইড পোস্ট বাদে। তাই আমরা নিমিষেই সব প্লেস চেক করে লিংকিং করে ফেলতে পারি।

প্রো টিপসঃ

ইন্টার্নাল লিংক আনার জন্য আরো রিলেভেন্ট প্লেস খুঁজতে আপনি গুগলে সার্চ দিতে পারেন। যেমন আমাদের image SEO এর জন্য আমরা এভাবেই সার্চ দিতে পারি।

site:ahrefs.com/blog “alt text”
site:ahrefs.com/blog “google images”

এখন কথা হলো, এই মেথডটা ঠিক আছে যদি আপনার সাইট ছোট সাইজের হয়। আমাদের ৬ টা পেইজ কিন্তু ম্যানুয়ালি চেক করা লাগে নি।

তবে যদি আপনার সাইটের সাইজ বড় হয়, আর কোয়েরি করে অনেক সার্চ রেজাল্ট পান, তাহলে আপনাকে প্রায়োরিটি সেট করে সবচে পাওয়ারফুল পেইজগুলো থেকে লিংক নিতে হবে।

এর জন্যে দু’টি উপায় আছে।

প্রথমটা হলো Ahrefs SEO Toolbar ব্যবহার করে সম্পূর্ণ Ahrefs SEO Metrics সমেত  টপ ১০০ গুগল সার্চ রেজাল্ট বের করে আনা। আপনি UR দিয়ে সর্ট করে পাওয়ারফুল পেইজগুলো প্রায়োরিটি সেট করতে পারেন।

ahrefs-toolbar-url-rating

আর দ্বিতীয়টা হলো, স্ক্র্যাপার ক্রোম এক্সটেনশান দিয়ে গুগল রেজাল্টকে স্ক্র্যাপ করা (Xpath : //div[@class=”srg”]/div/div/div/div/a/@href) আর সেগুলোকে Ahrefs Batch Analysis tool এ পেস্ট করা। UR দিয়ে সর্ট করে নেবেন।

batch-analysis-url-rating

দুই পদ্ধতিতেই আপনি একই রেজাল্ট পাবেন।

দ্বিতীয় মেথডঃ আপনার ‘পাওয়ার’ পেইজ ব্রাউজ করুন

সবচে বেশি ব্যাকলিংক আর অথরিটি-অলা পেইজগুলোই হল পাওয়ার পেইজ। Ahrefs Site Explorer দিয়ে Best By Links রিপোর্ট চালিয়ে পাওয়ার পেইজ খুঁজে পাবেন।

Site Explorer > enter your domain > Best by links

best-by-links

এই লিস্ট ঘাঁটার পর আপনি লিংক এড করার জন্য বহু রিলেভেন্ট পেইজ পাবেন।

যেমন, আমাদের noob-friendly link building guide হলো আমাদের ব্লগের (Ahrefs Blog) ৮ নাম্বার সর্বোচ্চ অথরিটি পেইজ। সেই পোস্টে ইমেজ দিয়ে লিংক বিল্ডিং এর কিছু আলোচনা আছে, Image SEO  এর গাইডে যা বলেছিলাম।

link-building-with-images

সেই গাইডে লিংক করার জন্য এটাও কিন্ত একটা পারফেক্ট আর রিলেভেন্ট প্লেইস। আপনি এই মেথড কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পেইজেও অথরিটি বাড়াতেও ব্যাবহার করতে পারেন।  

ধরুন, আপনি অনলাইনে প্রোটিন পাউডার সেল করে। আপনি চাইবেনই গুগলে যেন ‘Buy Protein Powder; কী ওয়ার্ডে আপনার ই-কমার্স পেইজটা র‍্যাংক করে। এই ধরণের পেইজগুলোতে লিংক বিল্ড করা আসলেই শক্ত কাজ। কিন্তু হতে পারে আপনার কোন একটা অথরিটেটিভ ব্লগ পোস্ট আছে যেখানে প্রোটিন পাউডার বা মাসল বিল্ডিং নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন, আপনি সেখান থেকেই ইন্টার্নাল লিংক আনতে পারেন।

এই ইন্টার্নাল লিংক গুলো আপনার ই-কমার্স পেইজের অথরিটিও বাড়িয়ে দেবে।

 

শেষ কথা

ইন্টার্নাল লিংকিং কোন রকেট সাইন্স না। আপনার শুধু দরকার একটা লজিকাল আর হাইরারকিয়াল সাইট স্ট্রাকচার। আর আপনার ইন্টার্নাল লিংক গুলো যেন সেই স্ট্রাকচার ফলো করে, সেটা নিশ্চিত করা। এটাই বেসিক কাজ। এরপর আপনি প্রয়োজনে কৌশলে আপনার পাওয়ার পেইজগুলো থেকে SEO করা লাগবে এমন সব পেইজে লিংক করতে পারেন।

ইন্টার্নাল লিংক বিল্ড করার জন্য কিছু টিপ্সঃ

  • সবসময় একই এংকর টেক্সট ব্যবহার করবেন না। একটু মিক্সচার করে রাখলে ভালো।
  • কেবলমাত্র অথরিটি বাড়ানোর জন্য রিলেভেন্ট না এমন কোনখান থেকে লিংক করবেন না। এমন ক্ষেত্রে একেবারেই কোন লিংক না করলেই বরং আরো ভালো।
  • একদম ধুমিয়ে লিংক পোস্ট করবেন না। শত শত লিংক পোস্ট করে অথরিটি বাড়ানোর দরকার নেই। একদম জায়গা বরাবর দুই একটা লিংক প্লেস করাই আপনার সফলতার জন্য যথেষ্ট।

তো যা বলছিলাম, এটা আসলেই রকেট সাইন্স না। তবে যদি আপনার বুঝতে সমস্যা হয়, তাহলে একটা বুদ্ধি দিই। উইকিপিডিয়ায় যাবেন। তাদের ইন্টার্নাল লিংকিং স্ট্র্যাটিজি টা একদম সেরা। তাদের এই লিংকিং থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

আপনার সাইট ছোট হোক আর বড়, শেখার জন্য এটা আদর্শ জায়গা।

Source: https://ahrefs.com/blog/internal-links-for-seo