অন-পেইজ SEO এর জন্যে নিচের ২৭ টি র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে

এই ফ্যাক্টরগুলো

  • আপনার পেইজে সরাসরি প্রভাব ফেলে
  • এমন কোন ফ্যাক্টরকে প্রভাবিত করে যা আপনার পেইজে প্রভাব ফেলে

 

আপনি কন্ট্রোল করতে পারবেন না, বা আপনার জন্য করা সম্ভব না, এমন কোন কিছুই আমি এখানে আনি নি।

লিস্টের শেষে এসে আপনার নজর দেয়ার মত পাঁচটি দরকারি ফ্যাক্টরের ব্যাপারে জানতে পারবেন।

on page seo

২৭ টি অন-পেইজ SEO র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর

তো, শুরু করা যাক!

 

১) টাইটেল ট্যাগের শুরুতেই কি-ওয়ার্ড

টাইটেল ট্যাগের শুরুতেই কি-ওয়ার্ড ব্যাবহার করলে সার্চ ইঞ্জিনের নেক-নজরের পড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

on page

এটা মোটামুটি অন-পেইজ SEO এর সবচেয়ে জরুরি ফ্যাক্টর হিসেবেই পরিচিত।

কেন?

কারণ সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারগুলো ক্রলিং এর প্রথম কয়েক মিলিসেকেন্ডের ভেতরেই এর মাধ্যমে সহজেই বুঝতে পারে আপনার মূল টপিক কীসের ওপরে।

যদি মনে করেন এইভাবে আপনার অডিয়েন্সের জন্য ভালো কোন হেডলাইন দিতে পারছেন না, তাহলে আপনি Yoast ব্যবহার করে রিডার আর সার্চ ইঞ্জিনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন টাইটেল ট্যাগ সেট করতে পারেন।

 

২) H1 ট্যাগে পেইজ টাইটেল

আপনার কি-ওয়ার্ড সমৃদ্ধ টাইটেলে গুগলের সফলভাবে ক্রল করা নিশ্চিত করে “<H1>” ট্যাগ।

HTML এ কী আছে, গুগল ক্রলার সেটাই খুঁজে বেড়ায়।

এই ট্যাগগুলোতে যদি পেইজ টাইটেল না থাকে, তাহলে সেটাকে পাত্তা নিয়ে দিয়ে চলে যাওয়াটা অসম্ভব নয়।

কে চায় এমনটা হোক?

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটগুলো এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে, তবে খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার থিম সেটার সাথে কম্প্যাটিবল কি না। অন্য কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে কিন্তু এই কাজ আপনাকে ম্যানুয়ালিই করতে হবে।

তো টাইটেল ট্যাগ ফরম্যাট করতে হলে –

h1-example

আপনার ব্লগ-পোস্ট কোড এডিটিং এরিয়াতে এটা আপনি এড করে দেবেন আর সাথে “<H1>” হেডিং ট্যাগও এড করে দেবেন।

এটা দেখতে তখন এমন হবে –

 

৩) URL এ কি-ওয়ার্ড

২০১৬ তে গুগলের এক রাউন্ডটেবিল সেশন থেকে জানা যায়, আপনার URL এ কি-ওয়ার্ড থাকা র‍্যাংকিং এর জন্য একটা ফ্যাক্টর।

যদিও এটা অনেক ছোটখাটো একটা ফ্যাক্টর, তবুও প্রাইমারি কি-ওয়ার্ড URL এ যুক্ত করাটা আমার কাছে বেস্ট SEO প্র্যাক্টিস মনে হয়।

দেখতেই পাচ্ছেন আমি আমার সব পোস্টেই এই কাজ করি।

keyword-in-url

বিন্দু বিন্দু জলেই যে সিন্ধু হয়!

 

৪) URL এর লেংথ

কন্টেন্ট URLযত ছোট আর পরিষ্কার হবে, সার্চ ইঞ্জিনে ততই ফেভার পাবে।

কেন বলুন তো?

সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারের জন্য এটা খুবই কাজের, কারণ এটা

  • পেইজের ক্লারিটি বাড়ায়
  • সাইট ম্যাপে ক্রল করতে সময় কম নেয়

url

ইউজার এক্সপেরিয়েন্সেও কিছুটা সুবিধা বাড়বে, কারণ এটা মনে রাখা সোজা।

 

৫) মেটা ডেস্ক্রিপশনে কি-ওয়ার্ড

আপনার মেটা ডেস্ক্রিপশন এমন একটা ফ্যাক্টর যেটাকে গুগল বেশ গুরুত্ব দেয়।

keyword-in-meta-description

এখন যদি এটাকে অপটিমাইজ করতে আপনার পেইজ আসলে কীসের ইনফরমেশন দিচ্ছে সেটার একটা সহজ-সরল ওভারভিউ দিয়ে অপটিমাইজ করেন আর কি-ওয়ার্ড ইনক্লুড করেন, তাহলে আপনার পেইজের মোটের ওপর র‍্যাংকিং বেড়ে যাবে।

 

৬) কন্টেন্ট স্ট্রাকচার যেন ইউজার-এক্সপেরিয়েন্সের দিকে ফোকাস থাকে  

আপনার সাইটের কন্টেন্ট ইউজার-এক্সপেরিয়েন্সের দিকে খেয়াল রেখে তৈরি করা উচিত।

অর্থাৎ, আপনার লে-আউট আর ফরম্যাটিং এমন হওয়া চাই, যাতে যে কেউই আপনার লেখা ব্রাউজ করে দ্রুত আর সহজেই তার নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে পারে।

ইউজার-এক্সপেরিয়েন্সে যেসব ফ্যাক্টর প্রভাব ফেলে –

  • স্পষ্ট হেডিং আর সাবহেডিং
  • ছবি বা ভিডিও
  • লেখাকে প্যারাগ্রাফ-এ ভাগ করা
  • বুলেট পয়েন্ট আর টেক্সট বক্স ব্যবহার করা

আপনার কন্টেন্ট এর লে-আউট এমনভাবে তৈরি করবেন যাতে সহজেই ব্রাউজ করা আর পড়তে পারা যায়।

ইউজাররা যাতে কোন রকম বাধা ছাড়াই দ্রুত তাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যায়, সে ব্যবস্থা করা উচিত।

নিচের ছবিটি দেখুন।

 

আপনি আমার কন্টেন্টে কয়েকটি জিনিস খেয়াল করবেন –

  • প্রচুর ‘হোয়াইট-স্পেস’
  • সহজপাঠ্য হেডিং
  • বুলেট পয়েন্টস
  • ছবি
  • লিঙ্ক

এসব আসলে একজন রিডারের চোখের জন্যেও ভালো আর সহজেই পড়া যায়।

অন-পেইজ SEO এর একটা জরুরি দিক হলো ইউজারের অভিজ্ঞতা।

 

৭) ইউনিক কন্টেন্ট

সার্চ ইঞ্জিন কিন্তু ডুপ্লিকেট কন্টেন্টকে রেজাল্টে না আনার জন্য যথেষ্ট খাটে। একই কন্টেন্ট একই কি-ওয়ার্ডের জন্য দুইবার র‍্যাংকিং পাবে না।

যদি সার্চ ইঞ্জিন দেখে যে একই কন্টেন্ট একাধিক পেইজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে যে কোন একটা পেইজকেই সে র‍্যাংকিং দেবে।

তবে কোনটাকে র‍্যাংকিং দেবে, সেটা বোঝা অসম্ভব।

content

 

যত কম ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট আপনার সাইটে রাখবেন ততই আপনার জন্য ভালো। ‘ক্যানোনিক্যালাইজেশান’ এর ঝামেলা এড়ানোর জন্যে। এর মানে হলো আপনার সাইট নিজেই নিজের র‍্যাংকিং খেয়ে ফেলবে।

যেমনটা র‍্যান্ড ফিশকিন বলেছেন,

কন্টেন্ট শুধু ইউনিক হলেই চলবে না, ইউনিক ভ্যালুও এড করা লাগবে।

ধরুন আপনার আর্টিকেলে আপনি ভাত রান্না শেখাবেন। তো সেই লেখায় আপনাকে অবশ্যই নতুন কোন পদ্ধতিতে ভাত রান্না শেখাতে হবে। সবাই যেভাবে শেখায়, সেভাবে শেখালে চলবে না।

 

৮) কন্টেন্ট রিডিং লেভেল

রিডিং লেভেলের ওপর ভিত্তি করে গুগল কন্টেন্টকে তিনভাবে ট্যাগ করে –

  • বেসিক
  • ইন্টারমিডিয়েট
  • এডভান্সড

কপিরাইটিং পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বলতে গেলে, রিডিং লেভেল বেসিকের যত কাছাকাছি রাখা যায়, ততই ভালো। এতে কন্টেন্টটা অনেক বেশি সংখ্যক রিডারের জন্য পড়তে সহজ হবে।

seo-cta

 

তবে কোন লেভেলের রিডেবিলিটি থাকবে, সেটা আপনার নিশের ওপর নির্ভর করে।

যেমন একটা সাইন্টিফিক জার্নালের রিডিং লেভেল অবশ্যই এডভান্সড লেভেলের হবে। পত্রিকা বা ট্যাবলয়েডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

গুগল কিন্তু এক সময় ভেঙ্গে দিতো যে লেখার রিডেবিলিটি কোন লেভেলের।

reading

 

যদিও এটা অপশন হিসেবে রিমুভ করে দেয়া হয়েছে, তবুও গুগল কীভাবে লেখার রিডেবিলিটিকে গুরুত্ব দেয় সেটার একটা ভালো ইংগিত এটা।

RankMath অথবা Yoast SEO plugins ব্যবহার করে আপনি আপনার কন্টেন্টের রিডিং লেভেল চেক করতে পারেন।

readability

এটা র‍্যাঙ্কিং-এর এক্টিভ ফ্যাক্টর হোক না হোক, আপনার রিডারদের জন্য একটা ডিসাইডিং ফ্যাক্টর। বাউন্স রেট বা র‍্যাঙ্কিং এর জন্য কিন্তু এটাও একটা জরুরি ব্যাপার।

 

৯) প্রথম ৫০ বা ১০০ ওয়ার্ডে কি-ওয়ার্ড রাখা

আপনার কন্টেন্টে যত তাড়াতাড়ি কি-ওয়ার্ড আসবে, ক্রলার তত তাড়াতাড়ি আপনার আর্টিকেলের মূল বিষয় ধরে ফেলতে পারবে।

keyword-usage-example

 

অনেক নতুন SEO কপিরাইটার আর ব্লগাররা এই ব্যাপারটা ভুলে যায়।

তারা হয় ইন্ট্রোডাকশনের শেষের দিকে বা আর্টিকেলের পরের দিকে কি-ওয়ার্ড বসায়।

প্রথম ৫০-১০০ ওয়ার্ডের মধ্যে কি-ওয়ার্ড আছে কিনা চেক করে তারপরেই আর্টিকেল পাবলিশ করবেন।

 

১০) H2 ট্যাগের সাবহেডিং

সাবহেডিং এর জন্য হেডার ট্যাগ ব্যবহার করলে আর সাবটপিক লিখলে আপনার পেইজটা আসলে কীসের পেইজ, সেটা বুঝতে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সহজ হয়ে যায়।

heading

 

এটা শুধু সার্চ ইঞ্জিনের জন্যই পেইজের স্ট্রাকচার তৈরি করে না, রিডারদের জন্যেও ব্যাপারটা বুঝতে অনেক সহজ হয়ে যায়।

 

১১) কন্টেন্টে LSI কি-ওয়ার্ড

LSI কি-ওয়ার্ডগুলো আপনার লেখাকে মূলত কন্টেক্সট দেয়। এগুলো আসলে আপনার লেখার সাথে সম্পর্কিত কিছু ওয়ার্ড আর ফ্রেইস।

যদিও এগুলো এখন আর কাজে লাগে কিনা সেটা নিয়ে মতভেদ আছে, আমি কিন্তু ঠিকই এই লেখায় সেগুলো ব্যবহার করছি।

ধরা যাক আপনি Podcast Microphone নিয়ে লিখছেন। তাহলে আপনার LSI কি-ওয়ার্ডগুলো এমন হতে পারে –

  • Best podcast microphone
  • Podcast microphone setup
  • Cheap podcast microphone
  • The blue yeti microphone

এইসব কি-ওয়ার্ড একটু একটু করে পুরো লেখায় ছড়িয়ে দিলে আপনার লেখার সাথে অনেক রিলেভেন্ট মনে হবে।

তাছাড়া অন্যান্য রিলেভেন্ট কি-ওয়ার্ড থেকেও লিংক এর মাধ্যমে ট্রাফিক পেতে পারেন।

 

১২) সিনোনিম-সমৃদ্ধ কন্টেন্ট

যেই কি-ওয়ার্ড আপনার আর্টিকেলে নেই, সেটার জন্যেও পেইজ অনেক সময় র‍্যাংক করতে পারে।

এটাকে সিমেন্টিক সার্চের বাই প্রডাক্ট ধরা হয়।

কোন পেইজের মূল টপিকের সিনোনিম কোন কি-ওয়ার্ডের জন্য অনেক সময় সেই পেইজটা র‍্যাঙ্কিং পেয়ে যায়।

যখন একাধিক টপিক প্রায়ই কাছাকাছি অর্থ দেয় কিন্তু ভিন্ন ডায়ালেক্ট বা বানানের জন্য আলাদা হয়, তখন এই রকম হতে পারে।

যেমন, ‘Hoover’ আর ‘Vacuum cleaner’ একই টপিকের দুই ধরণের ওয়ার্ড। কিন্তু গুগল অনেক সময় Hoover রিলেটেড কি-ওয়ার্ড সার্চে Vacuum Cleaner রিলেটেড পেইজকেও র‍্যাঙ্ক দিতে পারে। কারণ দুইটাই একই টপিকের আলাপ।

 

একাধিক কি-ওয়ার্ডের মাধ্যমে সিনোনিমের জন্য অপটিমাইজ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

 

১৩) কিওয়ার্ড অর্ডার

একটা কি-ওয়ার্ড কোন অর্ডারে সার্চ করা হচ্ছে আর সেটা আপনার পেইজে কীভাবে আসছে, তার ওপর কিন্তু র‍্যাংকিং নির্ভর করে।

মানুষজন প্রায় সময় একই জিনিস খুঁজতে নানা রকমের কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে।

তাই আপনার সব কিছুর জন্যেই পূর্ণ প্রস্তুতি রাখা দরকার।

একটা উদাহরণ দেখা যাক।

ধরি ৪ জন ব্যক্তি Tim Ferris এর লেখা Tribe of mentors বইটি কিনতে চাইছে। এখন তারা ৪ জন ৪ ভাবে বইটি গুগলে সার্চ করতে পারে।

  • Tribe of mentors tim ferriss
  • Tim ferriss tribe of mentors
  • Tribe of mentors by tim ferriss
  • Tim ferriss tribe mentors

 

যদিও তারা ৪ জনেই একই রেজাল্ট চাইছে, কিন্তু তবুও এই কি-ওয়ার্ডের অর্ডারের উপর নির্ভর করছে সার্চ র‍্যাংকিং-এ আপনার পেইজ কোথায় আসছে।

সেটা যদি খুব কম্পিটিটিভ নিশ হয়, তাহলে তো এর গুরুত্ব আরো বেশি।

এইক্ষেত্রে আপনি যা করবেন তা হলো বিভিন্ন অর্ডারে কি-ওয়ার্ড এর মিক্সচার করবেন আর কন্টেন্টের বিভিন্ন জায়গায় সেগুলো প্লেস করবেন।

 

১৪) আউটবাউন্ড লিংক ব্যবহার

আপনার কন্টেন্টের প্রকৃত মূল্য সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝাতে হলে আউটবাউন্ড লিঙ্ক খুবই দরকারি।

যা নিয়ে আর্টিকেল লিখছেন, সেটার রিলেটেড কোটিং, সাইটিং, রিসার্চ এর লিঙ্ক ইত্যাদি প্লেস করলে আপনার সাইটের অথরিটি বেড়ে যাবে, যেহেতু আপনি ভ্যালু এড করছেন।

নোটঃ আপনার নিশের জন্য ট্রাস্টেড অথরিটি সাইট থেকে লিংক দেবেন।

 

১৫) ইন্টার্নাল লিংকিং

হয়তো সবচাইতে কম ব্যবহার করা SEO স্ট্র্যাটিজি হলো ইন্টার্নাল লিংকিং। কিন্তু এটার প্রতি আপনার নজর রাখা উচিত।

আপনার সাইটের একটা পেইজ থেকে রিলেটেড আরেকটা পেইজে লিংক করাকেই বলা হয় ইন্টার্নাল লিংকিং

আমার what are keywords পেইজের একটা উদাহরণ দেখুন।

internal-linking

 

যখন আমি সেখানে কিওয়ার্ড সিগনাল কী ইন্টেন্ড করে তা লিখছিলাম, তখন আমার types of keywords পেইজে লিংক করে দিলাম। এটাই তো সুযোগ।

আপনি এর মাধ্যমে আপনার রিডারদের জন্যেই এক্সট্রা ভ্যালু দিচ্ছেন। কারণ তারাও এক্সট্রা কিছু পাচ্ছে পড়ার জন্য।

এটা কিন্তু আরো একটা কাজের কাজ করে।

ক্রলারগুলো আমার এই পেইজ থেকে অন্য পেইজের জন্য নতুন এক্সেস পয়েন্ট পেয়ে যায়।

আর যদি সেই পেইজের কোন ভালো লিংক জুস থাকে, তাহলে সেটা দুই পেইজের মধ্যেই শেয়ার হবে।

 

১৬) ওয়ার্কিং লিংক

আপনার সাইটের সবগুলো ইন্টার্নাল আর এক্সটার্নাল লিংক ভালো করে চেক করে দেখুন, কোনটা অকাজের হয়ে আছে কিনা। সব একটিভ থাকা চাই।

404 Not found এর দিকে রিডিরেক্ট হলে লিংক জুস তো বরবাদ হবেই, সাথে রিডাররাও বিরক্ত হবে। তাতে অনেক ভাবেই আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।   

 

১৭) অপ্টিমাইজড ইমেইজ Alt ট্যাগ

Alt ট্যাগ গুগলকে আপনার সাইটের ইমেইজকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।

কারণ ইমেইজ ক্রলারগুলো শতভাগ নিখুঁতভাবে ইমেইজকে আইডেন্টিফাই করতে পারে না। ইমেইজে অল্ট ট্যাগ ব্যবহার করে ক্রলারগুলোকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।

নিচের ইমেইজটা দেখুন।

প্রায় সব ওয়েবসাইটেই দেখা যাবে এর অল্ট ট্যাগ দেবে IMG_DIGI_0435678430.jpg টাইপের।

ক্রলারের জন্য এটা বোঝা খুবই ঝামেলার।

তাই অল্ট ট্যাগে কিছু বর্ণনামূলক নাম দেয়া ভালো। যেমন,

  • My personal workspace
  • Macbook and coffee cup
  • Old wooden table with modern laptop

 

এখন না ছবিটা ভালো করে বোঝা যাবে।

অল্ট ট্যাগগুলোকে লেখার সাথে রিলেভেন্ট রাখতে কি-ওয়ার্ড দিয়েও নাম দিতে পারেন।

পুরো লেখার বিভিন্ন ছবিতে এই ধরণের অল্ট ট্যাগ ছড়িয়ে দিতে পারেন। তবে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।

 

১৮) মোবাইল রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট

যেসব সাইট মোবাইল রেস্পন্সিভ না, সেগুলোকে ২০১৫ সালে গুগল পেনাল্টি করা শুরু করেছিলো।

অর্থাৎ, মোবাইল ডিভাইসে যদি আপনার সাইট ভালোভাবে না চলে, তবে র‍্যাঙ্কিং এ পিছিয়ে যাবেন।

২০১৮ তে মোবাইল ফার্স্ট ইন্ডেক্সিং এর মাধ্যমে ব্যাপারটার গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে।

 

আপনার সাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা বুঝতে হলে এই মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেস্ট টুল দিয়ে চেক করতে পারেন।

 

১৯) সাইট স্পিড

২০১০ এ গুগল ঘটা করেই ঘোষণা দেয়, যে সাইটের স্পিডকে তারা র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করবে।

speed

 

স্লো ওয়েবসাইটের জন্য আপনি দীর্ঘমেয়াদে র‍্যাংকিং-ও হারাবেন, টাকাও হারাবেন।

এটা যেহেতু আপনার কন্ট্রোলেই আছে, তাই এটাকে কিন্তু খুবই সিরিয়াসলি নিতে হবে। ঘন্টা দুয়েক সময় দিলেই মোটামুটি সাইটের স্পিড বাড়িয়ে ফেলা সম্ভব।

 

২০) HTTPS সিউকিউরিটি

২০১৪ তে গুগল ঘোষণা দেয় যে HTTPS encrypted সাইটকে তারা র‍্যাংকিং এ গুরুত্ব দেবে।

সামনে এই গুরুত্ব আরো বাড়বে।

আপনার সাইট HTTPS না হলে, দেরি না করে এখনই করে ফেলুন।

 

২১) Dwell টাইম লেংথ

সার্চ রেজাল্টের মাধ্যমে আপনার পেইজ খুঁজে পেয়ে কেউ সেখানে যে পরিমাণ সময় খরচ করে, সেটাই ডুয়েল টাইম।

ধরুন, আমি সার্চ করলাম ‘how to cook jasmin rice’

তো গুগলে আসা টপ রেজাল্টেই আমি ক্লিক করলাম।

jasmine-rice-search

এখন তিনটা ঘটনার যে কোন টা হতে পারে

১) ঢুকেই আমি বের হয়ে গেলাম, কারণ এই খানে আমি যা চাই, তা পাই নি
২) কিছুক্ষণ ঘুরাফিরা করলাম, কারণ আমি যা চাইছিলাম, কিছুটা সেখানে আছে
৩) অনেকক্ষণ সাইটটাতে ঘুরাফিরা করলাম, কারণ আমি যা চাইছিলাম, সেখানে একদম সেটাই পাওয়া গেছে

এই যে একজন রিডার আপনার সাইটে সময় দিচ্ছে বা দিচ্ছে না, সেটার ওপর নির্ভর করে গুগল আপনার সাইটের কোয়ালিটি বিচার করবে।

যদি অধিকাংশ রিডারই আপনার সাইটে ঢুকেই বের হয়ে যায়, তাহলে গুগল বুঝে নেবে এটা পুওর কন্টেন্ট।

যদি রিডাররা মোটামুটি আপনার পেইজে সময় দেয়, তাহলে গুগল সেটাকে এভারেজ কন্টেন্ট ধরে নেবে।

আর যদি রিডাররা বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটায়, তাহলে গুগল সেটাকে এক্সিলেন্ট কন্টেন্ট ধরে নেবে।

কন্টেন্ট কোয়ালিটি বাড়িয়ে, আর বিভিন্ন SEO কপিরাইটিং টেকনিক খাটিয়ে আপনার সাইটের ডুয়েল টাইম বাড়াতে পারবেন।

 

২২) বাউন্স রেট

অফিশিয়ালি গুগল বলছে বাউন্স রেট র‍্যাংকিংকে এফেক্ট করে না।

তবে Moz এর কিছু ডাটা আছে, যাতে এটাই পরিষ্কার যে, বাউন্স রেটের সাথে হাইয়ার র‍্যাঙ্কিং এর কো-রিলেশান আছে।

বাউন্স রেট কী যদি না বুঝে থাকেন,

ঠিক কতবার আপনার পেইজে কেউ এসে অন্য কোন পেইজে না গিয়েই লিভ করেছে, সেটার হিসাবই হলো বাউন্স রেট।

 

বাউন্স রেট ইম্প্রুভ করতে হলে

  • ইন্টার্নাল লিঙ্ক বিল্ডিং স্ট্র্যাটিজি এপ্লাই করুন
  • সেরা ওয়েবসাইট কন্টেন্ট তৈরি করুন
  • SEO কপিরাইটিং টেকনিক ব্যাবহার করুন

 

২৩) কন্টেন্টের লেংথ

সার্চ র‍্যাঙ্কিং এ লম্বা লেংথ এর কন্টেন্ট, ছোট লেংথ এর কন্টেন্ট এর চাইতে ভালো পারফর্ম করে।

Backlinko এর ব্রায়ান ডিন বলছেন গুগলের প্রথম পেইজে র‍্যাংক করা আর্টিকেলের এভারেজ লেংথ হল ১৮৯০ শব্দের।

আপনি যদি আমার ব্লগ খেয়াল করেন, আমার আর্টিকেলগুলোর শব্দসংখ্যা ১০০০ থেকে ১০০০০ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে লম্বা লেংথ বলতে আসলে কত শব্দ বোঝায়, সেটা নিশ অনুযায়ী ভিন্ন হবে।

তবে যত লম্বা আর ইন-ডেপ্থ লেখা সম্ভব, ততই লেখা উচিত।

 

২৪) কন্টেন্টের ডেপথ  

কন্টেন্টের ডেপ্থ মানে কন্টেন্ট একদম সাদামাটা হবে না।

আপনার কন্টেন্ট যেমন লম্বা হতে হবে, তেমনি এমন দরকারি রিলেভেন্ট ইনফরমেশানও থাকতে হবে যাতে মানুষ যা খুঁজে, তাই পেতে পারে।

ধরা যাক, Jasmine rice এর ক্ষেত্রে আমরা দু’টো সাইটের রেজাল্ট পেলাম। একটায় লিখেছে এমন করে –

Step #1: Boil water
Step #2: Put rice in water
Step #3: Wait until rice is soft।
Step #4: Eat rice

আর আরেকটায় লিখেছে এমন করে,

Step #1: Boil the water and add two pinches of salt
Step #2: Rinse the rice before you add it to the water
Step #3: Put the rice in the water and stir for the first two minutes
Step #4: Begin to…

বুঝে গেছেন নিশ্চই?

ইনফরমেশন যতটা ডিপ হবে, ততই সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারের কাছে পেইজের কন্টেন্ট ভ্যালুয়েবল মনে হবে।

 

২৫) মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার

কন্টেন্টে ইমেইজ আর ভিডিও ব্যবহার করলে

  • ডুয়েল টাইম বেড়ে যায়
  • বাউন্স রেইট কমে যায়
  • সোশ্যাল শেয়ার বেড়ে যায়

এর কারণে আপনার কন্টেন্টের পার্সিভড ভ্যালু বেড়ে যাবে আর ব্যাকলিংক আসবে।

 

২৬) কন্টেন্ট এর ফ্রেশনেশ

ফ্রেশ আর আপডেটেড কন্টেন্ট দিয়ে আপনি র‍্যাংকিং এর চলে আসতে পারেন। তাছাড়া আপনার কন্টেন্টকেও এটা প্রাণবন্ত করে তুলবে।

আর্টিকেলের সর্বশেষ আপডেট ডেইট কিন্তু গুগল সার্চ রেজাল্টে শো করে।

এর মানে হলো গুগল আর আপনার রিডার, দুইজনেই আপ-টু-ডেট কন্টেন্টের ব্যাপারে সচেতন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, আমি নিজেও এমন লিংকে ক্লিক করবো যা একদম সাম্প্রতিক তথ্য দেবে। তাই আপনার ক্লিক-থ্রু রেট বাড়াতেও এটা সাহায্য করবে।

 

২৭) গ্রামার আর স্পেলিং

গুগল বলছে আপনার কন্টেন্টের স্পেলিং আর গ্রামার ভালো করে চেক করা উচিত।

গ্রামার বা স্পেলিং এর ভুল আপনার সাইটেকে যে একদমই বরবাদ করে দেবে, তা কিন্তু না।

তবে এটা আপনার কন্টেন্টের ভ্যালু বাড়াবে ঠিকই।

 

৫ টি মূল অন-পেইজ SEO ফ্যাক্টর

সব র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টরই সমান জরুরি না।

এলগরিদমে কিছু ফ্যাক্টর অন্যান্য ফ্যাক্টরের চাইতে অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে।

মূল ৫ টি অন-পেইজ SEO ফ্যাক্টর হলো –

১) মোবাইল রেস্পন্সিভঃ আপনার সাইট যাতে মোবাইলে ঠিক মত ভিজিট করা যায়।
২) সাইট স্পিডঃ আপনার সাইট যাতে দ্রুত আর কার্যকর ভাবে ইউজারদের জন্য লোড হয়।
৩) টাইটেল ট্যাগের শুরুতেই কি-ওয়ার্ডঃ হেডলাইনে কি-ওয়ার্ড বসাতে হবে। পারলে শুরুর দিকেই।
৪) ইন্টার্নাল লিংকিংঃ কন্টেন্ট পেইজ আর সাইটের অন্যান্য রিলেভেন্ট পেইজের মধ্যে ইন্টার্নাল লিংক তৈরি করুন।
৫) কন্টেন্ট লেংথঃ কন্টেন্ট যত লম্বা আর ইন-ডেপথ করা সম্ভব, ততটাই করুন।

এই ৫ টি ফ্যাক্টরে ফোকাস করলে, মোটামুটি কেল্লা ফতে।

তবে অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলোকে একেবারেই ভুলে যাবেন না!

 

অন-পেইজ SEO চেকলিস্ট

আপনি যদি আপনার সাইটে এইসব ফ্যাক্টর এপ্লাই করার কোন প্র্যাক্টিকাল উপায় খুঁজে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য আমি এইখানে একটা অন-পেইজ SEO চেকলিস্ট তৈরি করেছি। এটা ডাউনলোড করে নিন।

এই আর্টিকেলে যা যা আলোচনা করেছি, চেকলিস্টে সবই পাবেন। নিজের সাইটে কাজ করার সময় এটা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন (আমি এটা প্রিন্ট করে আমার আশেপাশেই রাখি)।

 

শেষ কথা

এইখানে যা যা আলাপ করেছি, সব ফ্যাক্টরই আপনি নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবেন।

কিছু কিছু তো আপনি চাইলে এক মিনিটের মাথায় এপ্লাই করে ফেলতে পারবেন।

আর হাতে সময় কম থাকলে চটজলদি এই ৫ টা ফ্যাক্টর নিয়ে কাজ করতে পারেন

  • মোবাইল রেস্পন্সিভনেস
  • সাইট স্পিড
  • টাইটেল ট্যাগের শুরুতেই কি-ওয়ার্ড
  • ইন্টার্নাল লিংকিং
  • কন্টেন্ট লেংথ

তবে পরবর্তীতে অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলোও কাজে লাগাতে হবে।

আপনার সাইটের জন্য যখন কোন আর্টিকেল এডিট করবেন, আমার এই চেকলিস্টটা সাথে রাখতে ভুলবেন না।

সাইটে পাবলিশ করার আগে আপনার আর্টিকেলকে একদম নির্ভুল অপটিমাইজ করতে এর জুড়ি নেই।

এখন যেহেতু আপনি জানেন কোন কোন SEO ফ্যাক্টরগুলোতে ফোকাস করা লাগবে, তাই এখন সময় এসেছে SEO AUDIT করার।

source: https://www.matthewwoodward.co.uk/seo/on-page/checklist