আপনি অনেক কষ্ট করে সাইট বানিয়েছেন, কিন্তু গুগল সার্চে আপনার সাইটের দেখা মিলছে না? তাহলে আপনার জন্য ভালো-খারাপ দু’টি খবর আছে।

খারাপ খবরঃ বেশ কয়েকটি বিষয় আছে যা আপনার সাইটকে গুগল সার্চে আসতে দিচ্ছে না।
ভালো খবরঃ এই সব বিষয়ের অধিকাংশই সহজেই সমাধান করা সম্ভব।

** গুগলের ২০০ র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরগুলো বাংলায় পড়েছেন কি? 

আসুন, এমন ৯ টি বিষয় জেনে নিই, যা আপনার সাইটকে গুগল সার্চে আসতে দিচ্ছে না। সাথে জেনে নিন তার সহজ সমাধান।

শুরুর আগে

আসল কথা হলো, আপনি কিন্তু গুগলে কিছু সার্চ দিয়ে আপনার সাইট দেখতে চাইলেও, আপনি মূলত আপনার সাইট দেখতে চাইছেন না, চাইছেন আপনার সাইটের কোন একটা পেইজ।

এখন গুগল যদি না-ই জানে আপনার একটা পেইজ আছে যা আপনি র‍্যাঙ্ক করতে চাইছেন, অথবা গুগল মনে করে এই পেইজ র‍্যাংকে আসার যোগ্যই না, তাহলে সার্চে তা কখনই শো করবে না।

এই জন্য মূলত তিনটি বিষয় আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে।

১) গুগল জানে আপনার একটা সাইট আছে আর সেই সাইটের দরকারি পেইজগুলোতে গুগল এক্সেস নিতে পারবে।
২) যেই কী-ওয়ার্ড সার্চ দিচ্ছেন, সেটার সাথে সম্পর্ক আছে, এমন কোন কন্টেন্ট আপনার সেই পেইজে আছে।
৩) অন্যান্য পেইজের চাইতে আপনার পেইজটাই সার্চের মাধ্যমে বেশি র‍্যাংকিং পাওয়ার যোগ্য – এই বিষয়টা আপনি গুগলের কাছে প্রমাণ করেছেন।

এখন থেকে যা আলাপ করবো, বেশিরভাগই এই তিনটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল। আসুন শুরু করি।

 

১. আপনার সাইট একেবারেই নতুন

আপনি সকালে সাইট খুলে বিকেলে র‍্যাঙ্কিং চাইলে তো খুঁজে পাবেন না। সাইট র‍্যাংকিং এ আছে কিনা, সেটা বুঝতে আগে গুগলে site:yourwebsite.com দিয়ে সার্চ করুন।

যদি অন্তত একটা রেজাল্টও আসে, বুঝে নিন গুগল আপনার সাইট চেনে। তবে সাইট চিনলেও, এমনও হতে পারে, যেই পেইজ আপনি র‍্যাঙ্ক করতে চাইছেন, সেই পেইজ গুগল চেনে না। সেই ক্ষেত্রে site:yourwebsite.com/a-page-you-want-to-show-up-in-google/ দিয়ে সার্চ করে দেখুন।

একটাই মাত্র রেজাল্ট আসার কথা।  যদি কোন ক্ষেত্রেই কোন রেজাল্ট না দেখেন, তাহলে একটা সাইটম্যাপ ক্রিয়েট করুন। গুগল সার্চ কনসোলের মাধ্যমে সেটা সাবমিট করুন।

Search Console > Sitemaps > Enter sitemap URL > Submit

সাইটম্যাপ গুগলকে বুঝিয়ে দেয় আপনার সাইটের কোন পেইজটা দরকারি আর সেই পেইজগুলো কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে। তাছাড়া এটা পেইজ খুঁজে পাওয়ার গতিও বাড়িয়ে দেবে।

সাইটম্যাপ খুজে পাচ্ছেন না?

এখানে যান yourwebsite.com/sitemap.xml যদি কিছু না পান তাহলে এখানে যান yourwebsite.com/robots.txt প্রায় সময়ই এখানে থাকে URL

গুগল সার্চে আপনার সাইট না আসার ৯ টি কারণ

২. আপনার পেইজের ইন্ডেক্সিং করার থেকে আপনি সার্চ ইঞ্জিনকে ব্লক করে রেখেছেন

গুগলকে যদি আপনি বলে রাখেন অমুক তমুক পেইজ সার্চ রেজাল্টে আনা যাবে না, তাহলে গুগল সেটা আনবে না। এটা আপনি কীভাবে করেন? একটা ‘noindex’ মেটা ট্যাগের মাদ্যমে। এটা একটা ছোট্ট এইচটিএমএল কোড।

দেখতে এরকম – <meta name=”robots” content=”noindex”/>

সাইটম্যাপ করে গুগল সার্চ কনসোলে সাবমিট করলেও যদি এইভাবে নোইন্ডেক্স করে রাখেন, তাহলে সেই পেইজ কিছুতেই সার্চ রেজাল্টে আসবে না। আপনি হয়তো ভাবছেন, আরে ভাই এই কাজ আমি কবে করলাম? এর মানে এই না যে এটা হয় নাই। যেমন ওয়ার্ডপ্রেসে সাইট তৈরির সময় যদি ভুল কোথাও টিক পড়ে যায়, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস এইভাবে ব্লক করে দিতে পারে।

অনেক ওয়েব ডেভলাপার ওয়েব ডেভলাপমেন্টের সময় গুগলকে কিচু সাইট ইন্ডেক্স করা থেকে ব্লক করে রাখে কিন্তু সাইট পাবলিশ করে আর সেটা আন-ব্লক করতে খেয়াল থাকে না।

যদি গুগল আপনার সাইটম্যাপে ক্রল করে থাকে, তাহলে গুগল সার্চ কনসোল রিপোর্টে নোইন্ডেক্স গুলো সে আপনাকে কভারেজ রিপোর্টে দেখাবে।

এই এররটা খেয়াল করুন।

যদি আপনি মাত্র সাইটম্যাপ সাবমিট করে থাকেন আর গুগল ক্রল করে রিপোর্ট না দিয়ে থাকে, তাহলে আপনি Ahrefs Site Audit এও ক্রল রান করতে পারেন। এটি আপনার সাইটের প্রতিটি পেইজে প্রায় ১০০ টির বেশি এসইও ইস্যু খুঁজে দেখবে আর নোইন্ডেক্স ট্যাগ পেলে শো করবে।

একান্ত প্রয়োজন না থাকলে পেইজ থেকে নো-ইন্ডেক্স ট্যাগ সরিয়ে নিন।

 

৩. সার্চ ইঞ্জিনকে ক্রলিং করা থেকে আপনি ব্লক করে রেখেছেন

প্রায় সব ওয়েবসাইটেই robots.txt নামে একটি ফাইল থাকে। এটি সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার সাইটের কোন দিকে যাওয়া যাবে আর কোনদিকে যাওয়া যাবে না, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়।

যেসব ইউআরএল robots.txt ফাইলে ব্লক করা আছে, গুগল সেসবে ক্রল করতে পারে না। ফলে তা আর রেজাল্টে শো করে না।

আপনি গুগল সার্চ কনসোলের মাধ্যমে যদি সাইটম্যাপ সাবমিট করে থাকেন, তাহলে আপনাকে গুগল এই সংক্রান্ত ইস্যুগুলো জানিয়ে দেবে। কভারেজ রিপোর্টে গিয়ে “Submitted URL blocked by robots.txt” এই এররটি খুঁজে দেখুন।

ভালো কথা, আপনি যদি মাত্রই সাইটম্যাপ সাবমিট করেন, তাহলে এই রিপোর্ট এখনই পাবেন না। তবে আপনি যদি এত ধৈর্য ধরতে না পারেন, তাহলে নিচের মত করুন।

yourdomain.com/robots.txt এ যান। নিচের মত কিছু ফাইল দেখতে পাবেন।

খুঁজে দেখুন

User-agent: *

User-agent: Googlebot – এই ধরণের যে কোন ইউজার-এজেন্টের নিচে  Disallow: / লেখা কোন কোড আছে কিনা।

এটা গুগলকে আপনার সাইটের সবকটা পেইজে ক্রল করতে বাধা দেয়। কোন দরকারি কনটেন্টে ডিসএলাউ ডিরেক্টিভ রাখবেন না। তাই সবরকম ডিজএলাউ ডিরেক্টিভ তুলে দিন।

ভালো কথা,

robots.txt কিন্তু বেশ জটিল। এটা নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক সময় উল্টা-পাল্টা হয়ে যাওয়া সম্ভব। আপনি যদি নিশ্চিত হন এটার কারণেই আপনার পেইজ গুগল সার্চে আসছে না, তাহলে আপনি নিজে না পারলে কোন একজন এক্সপার্টের মাধ্যমে এটার সমাধান করাই ভালো।

 

৪. আপনার ভালো মানের যথেষ্ট ব্যাকলিংক নেই

ধরুন আপনার পেইজ গুগল সার্চে না আসার কোন কারণই নেই, তারপরেও কিন্তু আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার পেইজ আসলে র‍্যাঙ্ক পাওয়ার যোগ্য।

যদিও গুগল-এর এলগরিদমের বহু ফ্যাক্টর আছে, তবুও ইউনিক সাইটের ব্যাকলিংক সংখ্যাই মনে হয় সাইট র‍্যাংকিং পাওয়ার সবচে শক্ত কারণ। আমাদের কো-রিলেশান স্টাডিতে বারবার আমরা এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছি।

আপনার চাইতে বেশি র‍্যাংক-এ থাকা ওয়েব পেইজে যদি বেশি ব্যাকলিংক থাকে, তাহলে খুব সম্ভবত আপনার র‍্যাঙ্কিং না পাওয়ার এটাই কারণ। আপনার পেইজের ব্যাকলিঙ্ক এর সংখ্যা দেখতে চাইলে এইখানে ক্লিক করুন আর  ইউ আর এল পোস্ট করুন।

এই ফাঁকে জানিয়ে দিই, গুগল কখনো সাইট র‍্যাঙ্ক করে না। পেইজ র‍্যাঙ্ক করে। আপনি যদি কোন পেইজ র‍্যাঙ্ক করতে চান, তাহলে সেই পেইজে রেফারিং ডোমেইন এর সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামান। পুরো সাইটের না।

এইবার Keyword Explorer সাইটে যান, আপনার টার্গেট কী-ওয়ার্ড খুঁজুন। এরপর SERP OVERVIEW তে যান। এখানে বর্তমান টপ র‍্যাঙ্কিং পেইজগুলো আর প্রত্যেকটার এসইও মেট্রিক দেখতে পাবেন।

ডোমেইন কলামে দেখতে পাবেন প্রতিটা পেইজে কতটা ইউনিক ওয়েবসাইটের লিঙ্ক আছে। যদি আপনার পেইজে কম থাকে, তবে ব্যাকলিংক বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

 

৫. আপনার পেইজের অথরিটি কম

গুগল এর র‍্যাঙ্কিং এলগরিদম পেইজ-র‍্যাংক নামে একতা সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে। এটা ব্যাকলিংক আর ইন্টারনাল লিঙ্ক হিসেব করে। অনেক এসইও মনে করে এই সিস্টেম বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গুগল নিজেই নিশ্চিত করেছে যে তারা এটা এখনো ব্যাবহার করছে।

যদিও গুগল তাদের এই পেইজর‍্যাঙ্ক এর রেজাল্ট পাবলিকলি প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আপনি চাইলেও এখন আর আপনার কম্পিটিটরের সাথে আপনার রেজাল্ট চেক করে দেখতে পাড়বেন না।

তবে Ahrefs এ URL RATING (UR) নামে একটি টুল আছে, যার মাধ্যমে প্রায় একই কাজ করা যায়। এর মাধ্যমেও ইন্টারনাল আর ব্যাক-লিঙ্ক কাউন্ট করা হয় আর Ahrefs নিশ্চিত করেছে তারা এর সাথে সার্চ ট্রাফিকের সম্পর্ক পেয়েছে।

UR ১-১০০ এর একটা স্কেলে রেজাল্ট শো করে। যত বেশি নাম্বার, তত বেশি অথরিটি। Site Explorer বা free back link checker এর মাধ্যমে আপনার সাইটের UR রেজাল্ট দেখে নিন।

সাথে Keyword Explorer এর SERP Overview এর মাধ্যমে পাওয়া টপ কম্পিটিটরের UR রেজাল্ট তুলনা করে দেখুন।

যদি আপনার কম্পিটিটরের UR রেজাল্ট বেশি হয়, তাহলে বুঝে নেবেন, আপনার পেইজ অথরিটি কম, তাই এগোতে পারছেন না। এক্ষেত্রে দু’টি কাজ করতে পারেন।

১) বেশি ব্যাক-লিঙ্ক ডেভলাপ করুন
২) বেশি বেশি ইন্টারনাল লিংক এড করুন।

তবে বাস্তবতা হল, ইন্টারনাল লিঙ্ক এড করা সোজা। তাই বেশ কিছু কাজের ইন্টারনাল লিঙ্ক এড করে ফেলুন আর ফলাফল দেখুন।

 

৬. আপনার সাইটের অথরিটি কম      

সাইট অথরিটি র‍্যাঙ্কিং এর জন্য আসলেই কোন জরুরি ফ্যাক্টর কি না, এটা নিয়ে খোদ গুগলই মিশ্র বক্তব্য দিয়েচে। এই টুইটে গ্যারি ইলয়াস বলছেন, এমন কোন কিছুই আসলে নাই।

tweet কিন্তু এই ইন্টারভিউতে জন মুলার বলেছেন, তাদের কিছু মেট্রিক আছে, যা একই ধরনের জিনিস ম্যাপিং করে।

Ahref র‍্যাঙ্কিং আর ডোমেইন রেটিং এর মাঝে সম্পর্ক স্টাডি করেছে আর অল্প একতা পজিটিভ সম্পর্ক পেয়েছে।

তবে সাইট অথরিটি কখনো কখনো নির্দিষ্ট কিছু কী-ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে র‍্যাঙ্কিং এ ভূমিকা রেখেছে।  যেমন, “designer dresses” কী-ওয়ার্ড এর টপ র‍্যাঙ্কিং পেইজ গুলো খেয়াল করুন।

টপ ৫ টা পেইজের এভারেজ আর মিডিয়ান DR হল ৮২, সবচে দুর্বলটার হলো ৭৭। ০-১০০ স্কেলের মধ্যে এটা যথেষ্ট বেশি। এই কী-ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে কম অথরিটির যে কোন সাইট মোটামুটি র‍্যাঙ্কিং পেতে যুদ্ধ করা লাগবে।

সাইডনোটঃ কিছু কী-ওয়ার্ডের টপ অথরিটি সাইট ভালো র‍্যাংকিং করার মানে এই নয় যে সব ক্ষেত্রেই সাইট অথরিটি র‍্যাংকিং এ ভূমিকা রাখে। হতে পারে কিছু সার্চের ক্ষেত্রে, গুগল বোজে যে মানুষ আস্থাভাজন কোন সাইট থেকে তথ্য চায়, যেমন প্রখ্যাত কোন ব্র্যান্ড শপ, আউটলেট ইত্যাদি।

তবে “best coffee machine.” এই কী-ওয়ার্ডের জন্য আবার রেজাল্ট বেশ মিশ্র।

টপ ৫ এ হাই আর লো অথরিটির অনেক পেইজই শো করছে। আপনার সাইটের অথরিটি চেক করতে Ahrefs Site Explorer এ ডোমেইন পেস্ট করে দেখুন।

এই কী-ওয়ার্ডের DR স্কোরে যেসব টপ র‍্যাঙ্কিং সাইট এসেছে, সেসবের সাথে আপনার সাইটের রেজাল্ট তুলনা করে দেখুন। তাহলে বুঝতে পারবেন, সাইট অথরিটির ঝামেলায় আপনার র‍্যাঙ্কিং পিছিয়ে গেলো কিনা।

 

প্রো-টিপ

যদিও DR রেজাল্টে আপনার সাইটের উপরে অনেক সাইট থাকে, তবুও আপনি চাইলে সেসব সাইটকে টপকাতে পারেন। পেইজ লেভেলে বেশি বেশি ব্যাক-লিঙ্ক আর লিঙ্ক অথরিটি তৈরি করে। কারণ আসল কথা হলো গুগল সাইট র‍্যাঙ্ক করে না, পেইজ র‍্যাঙ্ক করে।

“bitcoin mining calculator.” কে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে.

যেমন দেখুন কী-ওয়ার্ডে ৪র্থ পজিশনে থাকা সাইট এর DR রেজাল্ট বাকিদের তুলনায় অনেক কম। এর কারণ হলো এই পেইজের অনেক ব্যাক লিঙ্ক রয়েছে আর হাই অথরিটিও আছে।

 

৭. আপনার ওয়েব পেইজ ‘সার্চ ইন্টেন্ট’ এর সাথে যায় না

গুগল কিন্তু কী-ওয়ার্ডের সাথে সবচাইতে বেশি কাজের আর দরকারই রেজাল্টই শো করার চেষ্টা করে। তাই সার্চার কী জানতে চায়, সেটার সাথে আপনার সাইটের কন্টেন্টের মিল থাকা চাই। একে বলে সার্চ ইন্টেন্ট। যেমন ধরুন আমেরিকান এক্সপ্রেস গুগলে র‍্যাঙ্কিং করতে চায় “best credit card” এই কী-ওয়ার্ডে।

এখন যদি আমরা Keyword Explorer এ টপ র‍্যাঙ্কিং রেজাল্ট দেখি, তাহলে দেখবো টপ ৫ এর রেজাল্ট নিম্নরূপ।

ডোমেইন রেটিং – ৮৬
ইউআরএল রেটিং – ৪৯
রেফারিং ডোমেইন – ৪৬৬

এখন সাইট এক্সপ্লোরারে আমেরিকান এক্সপ্রেসের পেইজ স্টাডি করলে দেখা যায় অন্য সব কিছুকে এই তিন ক্ষেত্রে পেইজটি টপকে গেছে। কিন্ত এরপরেও এটি টপ ১০০ রেজাল্টেই আসেনি।

কারণ এই পেইজে সার্চ ইন্টেন্ট এর সাথে কোন মিল নেই। সার্চার যা চায়, এই পেইজে তা পাওয়া যায় না। টপ র‍্যাংকিং এ যে পেইজ আছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তারা ভিবিন্ন ব্যাঙ্ক এর সেরা ক্রেডিট কার্ডের কম্প্যারিসন নিয়ে এসেছে।

যেখানে আমেরিকান এক্সপ্রেসের পেইজ একটা সেল পেজ মাত্র। গুগল জানে যে সার্চার অবশ্যই কোন সেল পেইজ খুঁজছে না। সে সেরাটা কীভাবে পাওয়া যাবে আর কেনই বা সেরা, সেটা নিয়ে জানতে চাইছে।

 

৮. আপনার ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট রয়েছে

ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট হলো যখন একই ওয়েব পেইজ দুটো ভিন্ন URL এর মাধ্যমে এক্সেস করা যায়। গুগল চায় ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট যাতে ইনডেক্সড না হয়। একই শেলফে একই বই এর দুইটা কপি রাখার মত অহেতুক জায়গা নষ্ট হয়। এই ক্ষেত্রে গুগল সেটাকেই ইন্ডেক্স করবে যেটা আপনি ক্যানোনিকাল হিসেবে সেট করবেন। ক্যানোনিকাল সেট না করা থাকলে গুগল নিজেই পেইজের সেরা ভার্সনটা ইন্ডেক্স করে নেবে। যদিও এই কাজে গুগল খুব একটা সুবিধার না। নিচের উদাহরণটা দেখুন।

Buffer.com এর দু’টি পেইজ। প্রায় একই রকম হওয়া স্বত্বেও দু’টিই ইন্ডেক্সড। এটা আসলে সমস্যা তৈরি করে। কারণ একই অথরিটির পেইজ দু’টি ইউআরএল-এ ভাগ হয়ে যায়। প্রথম ইউআরএল এর ১১৫ টা রেফারিং ডোমেইন এর ব্যাকলিঙ্ক আছে, আর আরেকটার আছে ১৪০ টা।

এই কী-ওয়ার্ডে একটা ইউআরএল-এর পেইজ এর পজিশন হলো ২২। যদি দুইটা ইউআরএল মার্জ করা যায়, তাহলে হয়তো আরো সামনে চলে আসবে।

আপনার ওয়েবসাইটে ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট খুঁজে বের করতে একতা ক্রল রান করতে পারেন Ahref Site Audit ব্যবহার করে। সেখানে Content Quality তে গিয়ে ক্যানোনিকাল ছাড়া ডুপ্লিকেট বা নিয়ার-ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট খুঁজে নিন।

এরপর  redirecting বা  canonicalizing এর মাধ্যমে ঘষামাজা করে লাইনে নিয়ে আসুন।

 

৯. আপনার সাইট গুগল পেনাল্টিতে পড়ে গেছে

যদিও তেমন রেগুলার না, তারপরেও গুগল পেনাল্টির কারণে আপনার সাইট গুগল সার্চে আসতে নাও পারে। গুগল পেনাল্টি আসলে দুই রকম।

ম্যানুয়াল – এটা হলো যখন কোন গুগল এর এমপ্লোয়ি আপনার সাইট নিজ থেকে ঘেটেঘুটে দেখবে আর কোন সমস্যা পাবে, তখন আপনার সাইটকে তারা মুছে দিতে পারে বা সার্চ রেজাল্টে পিছনে ঠেলে দিতে পারে। এটা আসলে খুব একতা হয় না, তবে যদি আপনার সাইট তাদের ওয়েবমাস্টার গাইডলাইন এর বাইরে কিছু করে, তাহলেই এমনটা হতে পারে।

এলগরিদম – এটা আসলে পেনাল্টি না বলে ফিল্টার বলা চলে। কোয়ালিটি ইস্যুর কারণে অনেক সময় গুগল এলগরিদম আপনার পেইজকে পেছনে পাঠিয়ে দিতে পারে।

আনন্দের কথা হলো ম্যানুয়াল পেনাল্টি খুবই অপ্রতুল। আপনি সার্চ কনসোলে নিজেই চেক করতে পারবেন আপনার সাইটের কোন ম্যানুয়াল পেনাল্টি আছে কিনা। ম্যানুয়াল একশান নামের ট্যাবটা ক্লিক করলেই সেটা শো করবে।

 

তবে এলগরিদমের কারণে যদি অর্গানিক ট্রাফিক কমে যায়, সে ক্ষেত্রে বোঝা টা কঠিন যে কী কারণে কমে গেল। কারন গুগল এই বিষয়ে আপনাকে কিছুই জানাবে না। যদি কখনো আপনার অর্গানিক ট্রাফিক হঠাৎ কমে যায়, তাহলে সবার আগে চেক করে দেখুন এটা কোন গুগলের নতুন এলগরিদম আপডেটের কারণে হলো কি না।

পেঙ্গুইন এই ক্ষেত্রে বেশ ভালো একটা টুল। এটা বিগত সময়ে গুগল আপডেট আর আপনার গুগল এনালিটিক্স ট্রাফিকে পাশাপাশি স্টাডি করে দেখায়। এতে আপনি সহজেই কোন ইস্যু থাকলে ধরে ফেলতে পারবেন।

এই পর্যায়ে এসে যদি দেখেন আপনার সাইট আসলেই পেনাল্টি বা ফিল্টারে পড়েছে তাহলে ধুম করে Link Disavow না করে এক্সপার্ট কারো সাহায্য আর পরামর্শ নিন।

 

শেষ কথা

আসলে গুগলে র‍্যাঙ্ক করা হলো ভিডিও গেইম খেলার মত। আপনার যদি গেমিং কনসোল ভাঙ্গা হয়, আপনি যত ভালো খেলুড়ে হোন, খেলতে পারবেন না। ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমনই। খেলার আগে “noindex” মেটা ট্যাগ, ক্রল ব্লক ইত্যাদি টেকনিকাল প্রব্লেম আপনাকে সমাধান করা লাগবে।      

এরপর আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কোন লেভেলে খেলছেন। বেগিনার, ইন্টারমিডিয়েট নাকি এক্সপার্ট। কিছু লেভেল সোজা, কিছু কঠিন। কম্পিটিটরদের টপকে যেতে আপনি ব্যাক-লিঙ্ক আর ‘অথরিটি’ বাড়িয়ে লেভেল আপ করতে পারেন।

আর যদি মনে হয় প্রতিযোগিতা খুবই অসম, তাহলে আরো সহজ, কম প্রতিযোগিতার কী-ওয়ার্ড নিয়ে নামুন। Keyword Explorer দিয়ে সহজেই খুঁজে নিতে পারেন লো-কম্পিটিটিভ কী-ওয়ার্ড।

গুগল সার্চে আপনার সাইট না আসার ৯ টি কারণ

শুধু এটাই মনে রাখবেন, লেভেল আপ করার জন্য যা কষ্ট করা লাগে, তা কিন্তু বৃথা যায় না। কারণ এচিভমেন্ট আনব্লক করতে পারলে আপনি রাতারাতি গেইম চেঞ্জ করে ফেলতে পারেন। তাই না?

Source: https://ahrefs.com/blog/why-is-my-website-not-showing-up-on-google